আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় পেরলিস প্রদেশের থাই সীমান্তবর্তী জঙ্গলে সন্ধান পাওয়া ১৩৯টির প্রত্যেকটিতে একটি করে মৃতদেহ রয়েছে বলে মনে করে দেশটি। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের অভিযান পরিচালনার পর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান জুনাইদি তুয়ানকু। যদিও এর আগে প্রত্যেক কবরে একাধিক মৃতদেহ থাকার আশংকা করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কবর খোঁড়া হয়েছে বা কতটি মৃতদেহ বা দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, চারটি মৃতদেহ ও বেশ কয়েক ব্যাগ দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহাবশেষগুলো ইতিমধ্যে দেশটির ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর- বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের পাশে ওয়াং কেলিয়ান শহরে সংবাদ সম্মেলনে উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান জুনাইদি তুয়ানকু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, এখানে কোনো গণকবর নেই, একটি কবরে একটিই লাশ। তিনি আরও বলেন, এগুলো খোঁড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ওই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কিনা তা দেখা।
জুনাইদি বলেন, কবর ও এর আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের পর আমরা প্রত্যেক কবরে একটি করেই লাশ পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। লাশগুলো সাদা কাপড়ে মোড়ানো। এটা মুসলিমদের কবরস্থ করার মতোই। কয়েকটি কবর অগভীরও ছিল।
তবে এ পর্যন্ত কতটি কবর খোঁড়া হয়েছে বা কতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি জুনাইদি। তিনি জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ এ উদ্ধার কাজ শেষ হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গলের পরিত্যক্ত শিবিরে খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে এ পর্যন্ত ৪টি মৃতদেহ ও বেশ কয়েক ব্যাগ দেহাবশেষ তুলেছে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার দেহাবশেষগুলো ইতিমধ্যে দেশটির ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা তা পরীক্ষা করে দেখছেন। ১ মে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মানব পাচারকারীদের ক্যাম্প ও গণকবরে পাচারের শিকার মানুষের হাড়গোড় পাওয়ার ১ মাসের মাথায় মালয়েশিয়ার জঙ্গলে পাচারকারীদের ২৮টি বন্দিশিবির ও ১৩৯টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।
মালয়েশিয়ায় মানব পাচারে দেশটির পুলিশ জড়িত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাচারে জড়িত সন্দেহে ১২ মালয়েশীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুনাইদি জানান, সীমান্তবর্তী ওয়াং কেলিয়ান গ্রামে কবর খুঁজে পাওয়ার সঙ্গে দুজন কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃহস্পতিবার পরিষ্কারভাবে জানা গেছে। অভিবাসীদের বহন করে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এ দুকর্মকর্তা জড়িত বলে জানান তিনি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি জুনাইদি।
মালয়েশীয় সীমান্তে রাতে পাচার : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাচারকারী ও পাচারের শিকার উভয় ব্যক্তিদের সঙ্গেই সাক্ষাৎ হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী কাম্পুং ওয়াং কেলিয়ান গ্রামের মানুষদের। এদের কেউ কেউ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে খাবার ও পানি চেয়েছেন তাদের কাছে। আবার অনেকেই হঠাৎই গ্রামবাসীর মুখোমুখি হয়ে বিব্রত হয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, স্থানীয় মসজিদটা কোন দিকে!
গ্রামবাসীদের মতে, মূলত মানব পাচারের কাজটি রাতেই হয়ে থাকে, যখন সীমান্তে তুলনামূলক কমসংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকে। থাই-মালয়েশিয়া সীমান্ত আনুমানিক ৭টার সময় বন্ধ হয়ে যায়। এরপরেই সীমান্তে নিরাপত্তা চৌকিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তখনই শুরু হয় মানব পাচার। গ্রামের একজন বাসিন্দা রামিল ওথম্যান বলেন, গত ডিসেম্বরে সর্বশেষ এক পাচারকারীর সঙ্গে তার হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়েছিল। সাবেক এ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, থাই সীমান্তের ৫০০ মিটার ভেতরে একটি নির্জন জায়গায় লরি দেখে আমি কাছে গিয়ে এর চালককে জিজ্ঞেস করলাম তিনি এখানে কি করছেন। তিনি আমাকে বললেন, তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু আমি তাকে তার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে বললে তিনি তা এড়িয়ে গেলেন, গাড়ির গ্লাস আটকে দিলেন এবং কাউকে ফোন করলেন। এর ঠিক ২০ মিনিট পরে অন্ধকারের মধ্যেই বেশ কয়েকজন লোক লরির পেছনে উঠে বসল আর চালক দ্রুত লরিটিকে জঙ্গলের আরও ভেতরে নিয়ে গেলেন। আমি আমার গাড়ি দিয়ে ফলো করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পারিনি।
রোহিঙ্গাদের সরানো হচ্ছে হাতিয়া দ্বীপে : কক্সবাজারের দুটি ক্যাম্পে অবস্থানকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দক্ষিণাঞ্চলের হাতিয়া দ্বীপে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারের মিয়ানমার শরণার্থীবিষয়ক সেলের প্রধান অতিরিক্ত সচিব অমিত কুমার বাউল এএফপিকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাতিয়া দ্বীপে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প অবশ্যই অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।#