৩০ মে ২০১৫ - ০০:০৯
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত মানুষ ভারতে

বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক ক্ষুধার্ত মানুষ ভারতের নাগরিক। ১৯৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৯ কোটি ৪০ লাখ বা প্রায় ২০ কোটি ক্ষুধার্ত জনগণ রয়েছে ভারতে।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক ক্ষুধার্ত মানুষ ভারতের নাগরিক। ১৯৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৯ কোটি ৪০ লাখ বা প্রায় ২০ কোটি ক্ষুধার্ত জনগণ রয়েছে ভারতে। বাংলাদেশে এ সংখ্যা ২৬ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষ এদেশে ক্ষুধার্তের শিকার।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এ বিপুলসংখ্যক ক্ষুধার্থ জনগোষ্ঠী নিয়ে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ভারত। বৈশ্বিক পর্যায়ে ১৯৯০-৯২ সালে ক্ষুধার্থ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল প্রায় একশ কোটি। ২০১৪-১৫ সালে তা প্রায় ৭৯ লাখ ৫০ হাজার কমে এসেছে। মূলত পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনেই ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশ অনেকটাই কমে গেছে, যা প্রভাব ফেলেছে বিশ্বজুড়ে মোট ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা- এফএও খাদ্য অনিরাপত্তায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি ২০১৫ (দ্য স্টেট অব ফুড ইনসিকিউরিটি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৫) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতেও ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এফএওর পর্যবেক্ষণের অধীনে থাকা ১২৯টি দেশের মধ্যে অধিকাংশই- মোট ৭২টি দেশ ২০১৫ সালের মধ্যে অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নশীল অঞ্চল নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কেবল সামান্য অংশই পূরণ করতে পারেনি। এছাড়া ১৯৯৬ সালে বিশ্ব খাদ্য শীর্ষ সম্মেলনে নির্ধারিত অতিরিক্ত কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে ২৯টি দেশ। ওই দেশগুলোর সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে অপুষ্টির হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য এশিয়াসহ আফ্রিকার কিছু অংশেও লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সামগ্রিক বিশ্লেষণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষিখাতে বিনিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষুধা নির্মূলকরণের মূল পন্থা বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।