আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : যৌন নিপীড়ন তো ছিলই, ছিল বীভৎস নির্যাতনও। নগ্ন করে খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পুরুষাঙ্গে ঢালা হতো বরফ গলা পানি। দু-দুবার নগ্ন করে ভিডিও করা হয়েছে। চলত নির্ঘুম রাখার নিপীড়ন। দেয়া হতো পোকার কামড়। এভাবে দিনের পর দিন চলেছে নির্যাতন।
কিউবার কুখ্যাত মার্কিন বন্দিশিবির গুয়ানতানামো বে তে টানা সাত বছর ধরে এই অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি মাজিদ খানের (৩৫)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই নাগরিককে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের অধীনে গুয়ানতানামোতে দফায় দফায় অবমাননাকর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘জিজ্ঞাসাবাদের উন্নত কৌশলের’ মুখোমুখি হতে হয় মাজিদকে। সন্দেহভাজন শীর্ষ পর্যায়ের আল কায়দা বন্দিদের মধ্যে মাজিদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিই গণমাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন মতে, মাজিদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাকে কবে কোথায় কী অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে, এ ব্যাপারে সিআইএ সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তার গ্রেফতারের বিষয় এবং অভিযোগে উল্লেখ করা বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে।
মাজিদের আইনজীবীর দাবি, মাজিদের পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে বরফ শীতল পানি ঢালা বা নগ্ন করে শরীরের গোপনাঙ্গে আঘাত করার মতো নির্যাতনের ঘটনা গুয়ানতানামো বে নিয়ে করা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। মাজিদের নির্যাতনের সম্পর্কে রয়টার্সের সাম্প্র্রতিক প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ হয়েছে।