১৫ জুলাই ২০১৫ - ০৪:০৬

দীর্ঘ ১৩ বছরের টানাপোড়েনের পর ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তি।

আবনা ডেস্ক : দীর্ঘ ১৩ বছরের টানাপোড়েনের পর ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তি। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে সৌদি আরব ও ইসরাইল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে বিশ্বের ঐতিহাসিক ভুল বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে তেহরানের কাছে আÍসমর্পণ করেছে পশ্চিমারা। অন্যদিকে সৌদি আরব নিজেই পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধিতার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এই দুই দেশের? আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
রিয়াদের একজন গবেষক মানসুর আল মারজুকি বলেছেন, সৌদি আরবের দৃষ্টিতে ইরান চুক্তির দুটো অর্থ রয়েছে। প্রথমত, এই চুক্তির ফলে ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। দ্বিতীয়ত, তেহরান চাইলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে। কারণ, চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধ্বংস হবে না। কেবল বোমা তৈরির ব্যাপারটা ১৫ বছরের জন্য পিছিয়ে যাবে। এই উভয় ফলই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবকে বাড়িয়ে দেবে। লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানি আধিপত্যকে আঞ্চলিক হুমকি মনে করে সৌদি আরব।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গবেষক নোসের আহমেদ বিন ঘাইতির মতে, নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র চায় না মধ্যপ্রাচ্যে ইরান পরাশক্তি হয়ে উঠুক। কিন্তু মার্কিন স্বার্থে তেহরানের কিছু আঞ্চলিক প্রভাবকে ছাড় দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরানি আধিপত্যকে পশ্চিমাদের স্বীকৃতি দেয়ার অর্থ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য উদ্বেগের। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ উঠলে তারা দৈনিক ১০-১৫ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করতে পারবে। ইরানের সস্তা তেলের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। তিনি বলেন, চুক্তি পরবর্তী বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যে তিন শক্তি প্রতিষ্ঠিত হবে- ইরান, তুরস্ক ও ইসরাইল।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ইসরাইল। সাংবাদিক জনাথন কুকের মতে, ইরানের কাছে পরমাণু প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটার অর্থ নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে স্বল্প সময়ের নোটিশে বোমা তৈরি করতে পারবে তেহরান। ফলে ফিলিস্তিন-লেবাননসহ ইরানের মিত্রদের ওপর ইসরাইল যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। ফিলিস্তিনের হামাস বা ইসলামিক জিহাদ এবং লেবাননেন হিজবুল্লাহ তেহরানের সহযোগিতায় ইসরাইলকে সমুচিত জবাব দিতে পারবে। তেলআবিব সব সময় বলে আসছে, ইরানের শিয়া নেতারা ইসরাইলি ইহুদিদের ওপর দ্বিতীয় হলোকাস্ট চালাবে। এমনকি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও হুমকি বলে প্রচার করেন নেতানিয়াহু। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফ দানা বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে ইরানের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ। ইরানের জুজু দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা নিয়ে থাকে ইসরাইল। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নথি থেকে জানা গেছে, নেতানিয়াহু সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন। পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল নিজেই ভয়ংকর হাইড্রোজেন বোমা বানানোর চেষ্টা করছে, যা আনবিক বোমার চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী। আর মধ্যপ্রাচ্যে তেলআবিবের উচ্চাভিলাষী সামরিক প্রকল্পে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়াবে তেহরান।#