৬ জানুয়ারি ২০১৬ - ১৬:২০
'একঘরে হচ্ছে সৌদি, বিশ্বজনমত ইরানের পক্ষে'

নিউইয়র্ক টাইমস এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ইউরোপীয়রা দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি সরকারের শান্তি-বিনাশী পদক্ষেপগুলো লক্ষ্য করছে।

আবনা ডেস্ক : সৌদি আরবের প্রখ্যাত শিয়া মুসলিম আলেম শেইখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে তেহরান-রিয়াদ উত্তেজনা জোরদারের ঘটনায় বিশ্ব-জনমতের বেশিরভাগই ইরানের পক্ষে রয়েছে বলে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেছে।
ওই মৃত্যু-দণ্ডাদেশ কার্যকর করায় তেহরানের কড়া প্রতিবাদ এবং তেহরানস্থ সৌদি দূতাবাসে একদল বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত ইরানি জনতার হামলার অজুহাতে রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ইউরোপীয়রা দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি সরকারের শান্তি-বিনাশী পদক্ষেপগুলো লক্ষ্য করছে। তারা সৌদি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর নিন্দা জানাতে মোটেই দেরি করেনি। আর এ থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে দাঙ্গা বাধানোর ক্ষেত্রে সৌদি ভূমিকা ও সৌদি সরকারের নীতির ব্যাপারে পশ্চিমা জনগণের উদ্বেগ ফুটে উঠেছে। ইউরোপের সরকারগুলোর কাছে সৌদি আরব অস্ত্র বিক্রির একটি লোভনীয় বাজার হওয়া সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি সরকারের আর্থিক ও নানা ধরনের সহায়তার বিষয়ে ইউরোপীয় জনগণের প্রতিবাদ ক্রমেই বাড়ছে।’
মার্কিন দৈনিকটি আরও লিখেছে, ‘সামাজিক নেটওয়ার্কসহ নানা মিডিয়ার প্রকাশিত বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ইউরোপীয়রাই তেহরান-রিয়াদ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার জন্য সৌদি সরকারকেই দোষী মনে করছেন। তারা বলছেন, রিয়াদ আয়াতুল্লাহ নিমরকে হত্যা করে এই সংকট সৃষ্টি করেছে। মাথা কেটে নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নৃশংস ঘটনার পর অসন্তোষ বা বিক্ষোভ দেখা দেবে-এই সম্ভাবনার কথা সৌদি সরকার জানত। আর এই অসন্তোষের অপব্যবহার করারও পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছিল সৌদি রাজ-সরকার। সৌদি সরকার এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবাদী শিয়া মুসলমানদের ওপর সরকারি দমন অভিযানের বিষয়কে জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়ালের চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী জাগরণ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি সরকার দেশটির জনগণ ও প্রতিবাদীদের সঙ্গে আরও বেশি কঠোর আচরণ করছে। কিন্তু পাশ্চাত্য ও মার্কিন সরকারের উচিত নয় মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন ও মাজহাবি দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে চোখ বন্ধ রাখা। কিংবা এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা দুর্বল করে দেয়ার পদক্ষেপগুলোকে সহজেই সফল হতে দেয়া উচিত হবে না।’
এদিকে চীনা দৈনিক চায়না ডেইলিও এক নিবন্ধে বলেছে, উত্তেজনা যতই বাড়বে সৌদি সরকারের ততই ক্ষতি হবে। ‘ইউরো-এশিয়া’ নামের একটি পরামর্শক সংস্থা ‘২০১৬ সালের সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর মধ্যে’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি সরকারের একঘরে অবস্থা জোরদার এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ার কথা তুলে ধরে বলেছে, এইসব বিপদের কারণে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকারকে তার স্বার্থ সুরক্ষার কাজ দ্বিগুণ বাড়াতে হবে। এই সংস্থার প্রধান আয়ান ব্রেমার বলেছেন, সৌদি সরকার বড় ধরণের যন্ত্রণার মধ্যে পড়েছে এবং দেশটির কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সচেতন। এদিকে জার্মান অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, সৌদি রাজার মাধ্যমে গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বৃহত্তম ঘটনার পর এই দেশটিতে অস্ত্র রফতানি বন্ধ করার কথা ভাবছে বার্লিন।#