৮ জানুয়ারি ২০১৬ - ০১:০৭
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু আজ

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মুসলিম জাহানের তৃতীয় বৃহত্তম মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার ৫১তম আসর।

আবনা ডেস্ক : টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মুসলিম জাহানের তৃতীয় বৃহত্তম মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার ৫১তম আসর। এবারও ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে দু'দফায়। ইজতেমাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ময়দানের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ব তাবলীগ জামায়াতের বার্ষিক মহাসম্মেলন হচ্ছে এই বিশ্ব ইজতেমা। পবিত্র হজ্ব ও ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশার অনুষ্ঠানের পর এটি বিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় মহাসমাবেশ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে টঙ্গীর তুরাগ তীরে। ইবাদাত-বন্দেগীর হ্রদয়ে ধারণ করে টঙ্গী অভিমুখে মুসল্লিদের স্রোতবেড়েই চলছে। এ স্রোত থাকবে আখেরী মুনাজাতের আগ পর্যন্ত।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, ময়দানে আগত মুসল্লিদের স্থান সংকুলান করতে না পারায় এবারও দু'দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দু'দফা বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফা শুক্রবার শুরু হয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। মাঝে ৪ দিন (১১, ১২, ১৩, ১৪ জানুয়ারি) বিরতি দিয়ে পুনরায় ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৭ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দ্বিতীয় বিশ্ব ইজতেমার।
বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় ১৬০ একর জমির উপর তাবলিগ জামাতের সদস্যদের থাকার জন্য বিশাল চটের প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে। মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে টিনের চালা ও ইটের গাঁথুনির দেয়াল দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিদেশী মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা। এবারের ইজতেমায় বিশ্বের ৫০-৬০টি দেশের প্রায় ১৪-১৫ হাজার বিদেশী মেহমান আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন।
আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ময়দানের নিরাপত্তা বিধানে ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
মুসল্লিদের যাতায়াতে সুবিধার্থে তুরাগ নদীতে এবারও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যগণ ৯টি ভাসমান পল্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন।
বুধবার থেকে জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন।
আগত মুসল্লিদের ইজতেমা মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে সমস্যা হতো। যাতে কোন রকম অসুবিধা না হয় সে বিবেচনা মাথায় রেখে দেশের ৬৪টি জেলাকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এবছর নির্দিষ্ট ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম পর্বে ১৭ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৫ জেলার মুসলি্লরা তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। সারা দেশের জামাতবদ্ধ মুসল্লিদের জেলাওয়ারী ভাগ করা হয়েছে। কোন কোন জেলার মুসল্লি কোন দফায় অংশ নেবেন সে দিক নির্দেশনাও ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। মাঠে মুসল্লিদের অবস্থান জেলাওয়ারী নির্দিষ্ট খিত্তায় (ভাগে) বিভক্ত করা হয়েছে।
১ম দফায় পুরো মাঠকে ২৭টি খিত্তায় এবং পরের দফায় ২০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
 
ইজতেমায় প্রথম দফায় খিত্তা ও খুটি ওয়ারী মুসল্লিদের অবস্থান
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম দফায় ১৭টি জেলার মুসল্লিরা অংশ গ্রহণ করবেন। প্রথমবারে অংশ নেয়া জেলার খিত্তা ও খুটি নম্বরগুলো হলো-ঢাকা-১ (হালকা নং ৩০১-৩০৪, ৩১৮, ৩২৪, ৬০১) খুটি নং-৭৪০১, ঢাকা-৩ (হালকা নং-৬০১-৬২০) খুটি নং-৬১০৫, ঢাকা-৬ (হালকা নং-২১৭-২২৭) খুটি নং-৫১০৫, ঢাকা-১১ (হালকা নং১৩৩-১৪৩) খুটি নং-৫১২০, ঢাকা-১৯ (হালকা নং-৫০১-৫০৫, ৫২০-৫৩০) খুটি নং-৪৩০৫, ঢাকা-১৪ (হালকা নং-১৭১-১৮৩) খুটি নং-৪৩২০,  শেরপুর (খিত্তা-৭) খুটি ৩৩০৫, নারায়নগঞ্জ-১ (খিত্ত-৮) খুটি নং-৩৩২০, নারায়ণগঞ্জ-২ (খিত্তা নং-১১) খুটি নং-২১২৭, নীলফামারী (খিত্তা নং-৯) খুটি নং২৩০৩, সিরাজগঞ্জ (খিত্তা নং-১০) খুটি নং-২১১৩, নাটোর ( খিত্তা নং-১২) খুটি নং-১১২৭, গাইবান্ধা ( খিত্তা-১৩) খুটি নং-৫২৭, লক্ষ্মীপুর-১ও২ (খিত্তা নং ১৪ ও ১৫) খুটি নং ৬৩৬, ৬৪২, সিলেট ১ ও ২ (খিত্তা নং ১৬ ও ১৭) খুটি নং ১৬২৪, ২৪৪০, চট্টগ্রাম ১ ও ২ (খিত্তা নং ১৮ ও ১৯) খুটি নং ২০৫২, ৮৫২, নড়াইল (খিত্তা নং ২০) খুটি নং১৬৯২,  মাদারীপুর (খিত্তা নং ২১) খুটি নং ৮৬৬, ভোলা ১ ও ২ (খিত্তা নং- ২২ ও ২৩) খুটি নং ৭৭৭, ৭৫১, মাগুড়া (খিত্তা নং ২৪) খুটি নং১৭৯৫, পটুয়াখালী (খিত্তা নং ২৫) ৮৩১১, ঝালকাঠি (খিত্তা নং ২৬) খুটি নং ৮৯০৯ এবং পঞ্চগড় জেলার মুসলি্লরা ২৭ নং খিত্তার ৯৯১৭ নং খুটিতে অবস্থান করবেন।#