১৬ জানুয়ারি ২০১৬ - ০১:১৮
পার্লামেন্ট বয়কট করলেন কুয়েতি শিয়া সাংসদরা

আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের বিরুদ্ধে প্রচারণা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে পরপর ২ দিন সংসদ বয়কট করলেন কুয়েতি শিয়া সাংসদরা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- : দু’জন কুয়েতি’র মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে কুয়েতের সংসদের শিয়া সাংসদরা গতকাল সংসদ সভা বয়কট করেছেন।

গত বুধবার পার্লামেন্টের ৯ শিয়া সদস্য পার্লামেন্টে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন। গত বৃহস্পতিবারও (১৪ জানুয়ারি) তারা সংসদ সভা বয়কট করেন।

কুয়েতি এ সাংসদরা, ‘আল-আব্দেলি’ নামক গ্রুপের বিরুদ্ধে এদেশের আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ নেন। ইরানের জন্য গুপ্তচারবৃত্তির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঐ আদালত!

এ রায়কে অপব্যবহার করে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাকে অন্যায় আখ্যায়িত করে কুয়েতি এক সাংসদ বলেন : বর্তমানে প্রচার করা হচ্ছে যে, কুয়েতি শিয়ারা [নিজেদের দেশের বিরুদ্ধে] ইরানের সহযোগিতা করে। এ ইস্যুতে দেশের জনগণ বিশেষতঃ শিয়া মাযহাবের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ।

সালেহ আশুর আরো জানান : বর্তমানে প্রকাশ্যে গণ সমাবেশসমূহে ও টিভির অনুষ্ঠানগুলোতে একটি সম্প্রদায়কে ইরানের দালাল, হিজবুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত এবং দেশের সাথে বিশ্বাষঘাতকতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় ব্যক্তিত্ব, নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ জনগণও এ অভিযোগের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

কুয়েতি এ সাংসদ আরো জানিয়েছেন : কুয়েতি শিয়াদের বিরুদ্ধে এ অপবাদ আরোপ করা হলেও, অপবাদ আরোপকারীরা ঐ সকল কুয়েতিদের বিষয়ে নিরব যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসী দলগুলোর সাথে যুদ্ধরত।

উল্লেখ্য, কুয়েতের অপরাধ বিষয়ক বিশেষ আদালত গত মঙ্গলবার (৫ই জানুয়ারি) ২৬ জনকে অস্ত্র বহনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাদের মধ্য থেকে দু’জনকে ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বলা হচ্ছে যে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ঐ দুই ব্যক্তির একজন ইরানের নাগরিক।

কয়েক মাস পূর্বে ঐ সকল ব্যক্তিকে কুয়েতের আল-আব্দেলি অঞ্চল থেকে আটক করা হয়। আটকের পর থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আরোপ শুরু হয়েছে। কিছু কিছু কুয়েতি কর্মকর্তা ও কুয়েতি গণমাধ্যম দাবী তুলেছে যে, ঐ গ্রুপটির সাথে ইরান ও হিজবুল্লাহর সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনার পর শুরু হওয়া অপপ্রচারের কারণে প্রচন্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন কুয়েতি শিয়ার।

কুয়েত সরকার দাবী করেছে যে, তাদের কাছ থেকে ৫৬টি রকেট, ১৪৪ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য ও পি. আই. ৪, ১৯ টন সরঞ্জাম, ৩টি এন্টি ট্যাংক রকেট লাঞ্চার, আর. পি. জি, ৫৬টি অগ্নেয়াস্ত্র ও ২০৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।

বলাবাহুল্য, কুয়েতি পার্লামেন্টের মোট সদস্য সংখ্যা ৫০; যাদের মাঝে ৯ জন সদস্য শিয়া মাযহাবের অনুসারী। আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা ৩৫ ভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক পরিসংখ্যান সংস্থা পি ই ডব্লিউ-এর ২০০৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২৫ ভাগ আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের অনুসারীদের নিয়ে গঠিত।#