আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: যুবক-যুবতিদেরকে আকৃষ্ট করতে সকল ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে দায়েশ। টুইটার ও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইটে তৎপর সন্ত্রাসীরা এ গ্রুপের সদস্যরা। ইতিমধ্যে সদস্য সংগ্রহের জন্য সকল উপকরণ ব্যবহারের আহবান জানিয়েছে সন্ত্রাসী এ সংগঠনটি।
দায়েশের প্রথম টার্গেট পশ্চিমা বিশ্বে অভিবাসী পরিবারের যুবক-যুবতিরা। দায়েশের প্রতারণার সর্বশেষ নমুনা;সম্প্রতি জার্মানীর হানুফার শহরে এক পুলিশ সদস্যের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক যুবতি।
১৫ বছরের এ যুবতির আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দায়েশ সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত হয়েছে।
প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকে যুবসমাজ। অতএব, এটাই হচ্ছে প্রভাব বিস্তারের সর্বোত্তম পথ। এ কারণেই দায়েশ প্রচারণার জন্য এ পন্থাকে বেছে নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ১৪ থেকে ৩৫ বছরের যুবকরা দায়েশের মূল লক্ষ্যবস্তু। সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা টার্গেটকে লক্ষ্য করে কাজ শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই টার্গেটকে ফাঁদে ফেলে।
অনেক সময়যুবক-যুবতিদেরকে একে একে এবং পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হয় অথবা ই-মেইল পাঠানো হয়। সাধারণত আসল বা ছদ্মনামে টার্গেটের সাথে যোগাযোগ করে দায়েশ সন্ত্রাসী এবং দায়েশের সারিতে যোগদানের পর তার নতুন জীবনের মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প শোনাতে থাকে। এরপর টার্গেটকে ‘আন্দোলনে’ যোগ দিয়ে ‘সত্যে’র শিবিরকে সহযোগিতার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ইউটিউটব, ফেইসবুক ও টুইটারের মত ওয়েব সাইটগুলো কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব ওয়েব সাইটের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো সহজ হয়ে ওঠে না। এ কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের কুউদ্দেশ্যকে সফল করতে নিজস্ব উপকরণের আশ্রয় নেয়, যেমন আল-হায়াতসহ বিভিন্ন ওয়েব সাইট, যেগুলো তাদের প্রচারণার জন্য বিভিন্ন ভাষায় তৈরী করা হয়েছে।
সন্ত্রাসীরা এ ওয়েব সাইটগুলোতে বিভৎস ছবি ও ভিডিও আপলোড করে এবং কোনরূপ লজ্জা ও অনুশোচনা ছাড়াই হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের পর তাদের উল্লাশে মেতে ওঠার চিত্র এতে প্রচার করা হয়।
মজার বিষয় হল তারা অত্যাধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে এমন কিছু বার্তা প্রচার করে যেগুলো তাদের পশ্চাতপদতার বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে।
সন্ত্রাসীরা প্রচারণার সময় তাদের এ সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতার জন্য বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরে, যেমন ক্রুশের যুদ্ধ। এ ধরনের তুলনা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিহীন হলেও সাধাসিধে ও অনভিজ্ঞ যুবকদেরকে ফাঁদে ফেলার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।