১১ মে ২০১৬ - ১৫:০৯
এসএসসির ফল, কারো আনন্দ কারো চোখে জল

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণায় সিলেটের স্কুলে স্কুলে দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের আনন্দ।

আবনা ডেস্ক : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণায় সিলেটের স্কুলে স্কুলে দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের আনন্দ। পাশাপাশি প্রত্যাশিত ফলাফল না হওয়ায় অশ্রুসিক্ত হতেও দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকে। বুধবার (১১ মে) ফলাফল ঘোষণার পর সিলেটের বিভিন্ন স্কুল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে এমনই বিপরীত দৃশ্য।
সিলেটের বিভিন্ন স্কুলে দুপুরের দিকে ফলাফলের কাগজপত্র পাঠায় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। দুপুর ২টার দিকে স্কুল থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
স্কুল থেকে ফলাফল ঘোষণার আগেই ইন্টারনেট আর মোবাইলের ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করে অনেক শিক্ষার্থী। প্রত্যাশিত ফলাফল জেনে উল্লাসে মাতে শিক্ষার্থীরা। আনন্দে জড়িয়ে ধরেন বাবা-মা কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের। তাদের এ আনন্দ যেন শেষই হতে চায় না।
রঙিন এসব মুহূর্তের মুখচ্ছবি ফ্রেমবন্দি করে তুলতে শুরু হয় সেলফি উৎসব। দল বেঁধে নিজেদের মধ্যে আবার কখনো বা শিক্ষক, অধ্যক্ষের সঙ্গে ছবি তোলার তোড়জোড় চলতে থাকে স্কুলে স্কুলে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট পাইলট স্কুলে গিয়ে দেখে যায়, স্কুল আঙিনায় ফলাফলের অপেক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ ইন্টারনেটে ফলাফল জানার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ মোবাইলের ম্যাসেজ দিয়ে ফলাফল জানার অপেক্ষায় আছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই অনেকে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের রেজাল্ট জেনে যায়।
আগে ফলাফল জেনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ঋত্বিক রায়। প্রত্যাশিত ফলাফলে আনন্দে আত্মহারা পাইলট স্কুলের ওই শিক্ষার্থী বাংলামেইলের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্কুলে আসি। শিক্ষকরা জানান, এখনো রেজাল্ট হয়নি। রেজাল্ট প্রকাশ হতে আরো দেরি হবে।’
শিক্ষকদের এমন বক্তব্য শুনে তিনি হতাশ হয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি নিজের মোবাইলের ম্যাসেজ পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসে তার রেজাল্ট।
ঋত্বিক জানান, তিনি জিপিএ-৫ পয়েছেন। এতে সে খুব আনন্দিত।
শুধু ঋত্বিকই নয়, ওই ক্যাম্পাসে আসা আরো অনেকেই মোবাইলের মাধ্যমে তাদের রেজাল্ট জানতে পেরেছে। আগাম ফলাফল জানা অপর দুই শিক্ষার্থী ইমন ও মো. নাহিদ রহমান নাফি বাংলামেইলকে জানায়, তারাও ক্যাম্পাসে এসে ফলাফল না পেয়ে মোবাইলের মাধ্যমে জেনেছেন।
নাফি ও ইমন দু’জনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাই তারাও খুব আনন্দিত ও উল্লসিত।
ঠিক উল্টো চিত্রে দেখা গেল বেদনার প্রতিচ্ছবি। তবে প্রত্যাশিত ফলাফল না হাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কেই কেউ গণ্যমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাইলট স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানায়- প্রত্যাশিত ফলাফল তার হয়নি। এ কথা বলতে না বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ওই শিক্ষার্থী। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে সহপাঠী অনেককেই।
দুপুর ২টার দিকে সিলেট অগ্রগামী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ফলাফল জেনে আনন্দ-উল্লাস করছে। সঙ্গে আনন্দে যোগ দিয়েছে অভিভাবকরাও। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা অশ্রুসজল হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছে।
সিলেট অগ্রগামী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হাসনা বেগম বাংলামেইলকে জানায়, এবার ওই স্কুল থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাই সে খুব আনন্দিত। এটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে জানায় সে।
অগ্রগামী স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসা এক অভিভাবক জানান, তার সন্তান ভালো করেছে। এজন্য তিনি আনন্দিত।
প্রসঙ্গত, এবার এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এবার তা ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে।
এদিকে এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৬৬ শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৫২। অর্থাৎ, এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৬ জন কমেছে।#