আবনা ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট মৌসুমি বন্যায় এ পর্যন্ত শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে, ঘরবাড়ি ছেড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অনেককে উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
গত সপ্তাহে নেপালে বন্যা এবং বন্যার ফলে সৃষ্ট ভূমিধ্বসে মারা গেছে ৭৫ জনেরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যা একটি নিয়মিত ঘটনা। প্রতি বছরই এতে কয়েকশ লোক প্রাণ হারায়।
নেপালে বন্যাদূর্গতদের উদ্ধারে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেখানকার পশ্চিমাঞ্চলে সবচে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দূরবর্তী এলাকাগুলো থেকে আরো মৃতের খবর আসছে। এখনো ১২ জন লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকারের মুখপাত্র জাদব প্রাসাদ কৈরালা।
ভয়াবহ বন্যা চলছে ভারতেও। দেশটির বিহার রাজ্যে মারা গেছে ২২ জন। এছাড়া বন্যায় সরাসরি ভুক্তভোগী রাজ্যের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আসামে বন্যার ফলে মারা গেছে ১৬ জন। সেখানেও প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। ইতিমধ্যে ১ লাখ লোককে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কৃষিভূমিসহ বন্যপ্রাণিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন্যায়। ব্রহ্মপুত্রসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরো কিছু নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে।
বন্যা চলছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায়ও। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধার অবস্থা বেশি খারাপ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু কুড়িগ্রামেই পাঁচ লাখের মতো লোক বন্যার ফলে ভুক্তভোগী। গত কয়েকদিন মারা গেছে ১১ জন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, দেশটির খাইবার পাখতুন এবং পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যায় মারা গেছে ২২ জন। পাকিস্তান ও ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের জেলাগুলোতে বন্যার ফলে মারা গেছে ৫৮ জন। ভারতের উত্তরখণ্ড এবং অরুণাচল রাজ্যের সঙ্গে লাগোয়া পাকিস্তানের চিত্রাল জেলার অবস্থা সবচে খারাপ।