৪ আগস্ট ২০১৬ - ১৩:২৭
নাউরু দ্বীপে শরণার্থীদের নির্মমতা

অস্ট্রেলিয়ার নাউরু দ্বীপে বন্দিশিবিরে শরণার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়। প্রতিদিন সেখানে সহিংসতা হয়।

আবনা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার নাউরু দ্বীপে বন্দিশিবিরে শরণার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়। প্রতিদিন সেখানে সহিংসতা হয়। হতাশায় অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অনেক শিশু ও নারীকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয় না। নৌপথে অবৈধ শরণার্থীর প্রবেশ ঠেকাতে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়। নতুন এক রিপোর্টে এসব অভিযোগ এনেছে মানবাধিকার বিষয়ক দুটি সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তবে অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে অস্ট্রেলিয়া। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে নাউরু দ্বীপ সফর করেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শিশু অধিকার বিভাগের সিনিয়র কাউন্সেল মাইকেল বোচেনেক ও এক গবেষক। তারা বৈধ ভিসায় সেখানে গেলেও কর্তৃপক্ষকে তাদের আসল উদ্দেশ্য জানান নি। মাইকেল বোচেনেক বলেছেন, আমার অভিজ্ঞতায় উন্নত বিশ্বের আর কোন দেশে পালিয়ে আসা মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় না। নাউরুতে নির্যাতনের এসব ইস্যু সম্পর্কে বেশ ভালভাবে অবগত অস্ট্রেলিয়া সরকার। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন। অভিযোগের অনেকটাই তারা জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক একজন মুখপাত্র বলেছেন, এমন অভিযোগ আনার আগে আমরা অ্যামনেস্টিকে ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলবো। তবে কোন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি। আজ বুধবার অ্যামনেস্টি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওই রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই দ্বীপে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়েছে শরণার্থীদের। তারা তাদের আতঙ্ক, ক্ষোভ ও হতাশার কথা বলেছেন। তাদের একজন বলেছেন, আমাদের বাস্তব কোন জীবন নেই। আমরা শুধুই বেঁচে আছি। আমরা জীবন্ত দেহের ভিতর মৃত আত্মার মতো বেঁচে আছি। আমাদের কোন আশা নেই। নেই কোন উদ্দেশ্য। ওই দ্বীপ সফর করার সময় মাইকেল বোচেনেক বলেছেন, শরণার্থীরা তাকে বলেছেন, তাদেরকে স্থানীয়রা নিয়মিত হয়রান করে। চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এসব কারণে তাদের অনেকে মাঝে মাঝেই আত্মহত্যার আলোচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশুরাও। ওই দ্বীপ সফরকালে কমপক্ষে ২০ জন শরণার্থীর সাক্ষাতকার নিয়েছেন গবেষকরা। এ সময় শরণার্থীরা বলেছেন, তাদের সব কিছু কেড়ে নেয় নাউরুর অধিবাসীরা। একজনের মাথায় তো একবার চাপাতি দিয়ে কোপই বসিয়ে দেয়া হয়েছিল। একজন নারী বলেছেন, তিনি জটিল রোগে ভুগছেন। তার স্তনে, গলা ও গর্ভাশয়ে টিউমার। উপকূলীয় একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই তাকে জোর করে ফেরত পাঠানো হয়েছে নাউরুতে। ওই নারী বলেছেন, যখন আমি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলাম, চিকিৎসক অভিবাসন বিভাগকে বলেছিলেন, আমার স্তনে অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু তারা আমাকে ফেরত পাঠায়। এখন আমার অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আমাকে শুধু কিছু ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। সারাক্ষণ ব্যাথা হয়। আমি কিছুই খেতে পারি না। গবেষকরা বলেছেন, নাউরুর শিশুরা মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাদের বিছানা থাকে ভেজা। তারা যোগাযোগ করতে পারে না। বেশির ভাগই স্কুলে নিয়মিত অপমানিত হয়। অনেককে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নৌপথে যেসব শরণার্থী অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছে তাদেরকে ২০১২ সাল থেকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ নাউরু ও পাপুয়া নিউ গিনির মানুস দ্বীপের মতো স্থানে। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া পরিষ্কার করেছে যে, তারা এসব শরণার্থীদের গ্রহণ করবে না। অস্ট্রেলিয়ায় পর্যায়ক্রমে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা সবাই মানবিক দিকটি তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, এসব মানুষ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় এদের অনেকে সমুদ্রে ডুবে মরে। তাই এ পদক্ষেপকে নিরুৎসাহিত করতে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নৌপথে এভাবে সেখানে যেতে গিয়ে কমপক্ষে ১২০০ মানুষ মারা গেছে।