আবনা ডেস্ক: স্থায়ীভাবে বুরকিনি নিষিদ্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরা। বিপরীতে নারীদের বুরকিনি পরার আহ্বান জানিয়েছেন এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। আলজেরিয়ান উদ্যোক্তা ও মানবাধিকার কর্মী রাচিদ নেক্কাজ বলেন, ‘অধিকার ও স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য নারীরা বুরকিনি পরে সমুদ্র সৈকতে যেতে পারে। এজন্য যত টাকা জরিমানা দিতে হয় তা আমি দেব।’
মুসলিম নারীদের পোশাকের সাংস্কৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও তিনি আরও বলেন, ইউরোপ কিংবা ফরাসি সংস্কৃতির সঙ্গে বোরকা বা নেকাবের ব্যবহার ঠিক চলে না। তবে অন্যের স্বাধীনতার ওপর ফরাসিদের হস্তক্ষেপ করাটাও সমীচীন নয়। এসব কারণে ২০১৩ সালে নেক্কাজ ফরাসি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বলে জানায় সিএনএন।
এদিকে এএফপি জানায়, আইন ভঙ্গ করে বুরকিনি পরিধান করলে ফ্রান্সে সবোর্চ্চ ২০৫ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে বুরকিনির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিসে শহরের আদালতে সোমবার এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে দুই মানবাধিকার কর্মীর আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়।
নিসেতে এ পোশাক পরলে ৪৩ ডলার জরিমানার আদেশ জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১৫টি শহরে সাময়িকভাবে বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিএনএন জানায়, বিকিনির পরিবর্তে ব্যবহৃত এক ধরনের সাতারের পোশাকের নাম বুরকিনি। মুখ ব্যতীত সম্পূর্ণ দেহ আবৃত করা থাকে এ পোশাকে। ফ্রান্সে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর দেশজুড়ে হু হু করে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে লেবানিজ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ী আহেদা জানেত্তি জানান, বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় হিতে বিপরীত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই পোশাক নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় কারণে এর পরিচিতিও দ্রুত বাড়ছে। শুধু মুসলিম নারীরাই নয়, বিকিনিতে অভ্যস্থ অমুসলিম নারীরাও বুরকিনির প্রতি ঝুকছে।
এ ব্যাপারে আহেদা বলেন, ‘গত রোববারে ৬০টি বুরকিনির অর্ডার পেয়েছি আমরা।’ মজার ব্যাপার হল- অর্ডারকারীরা সবাই অমুসলিম নারী। আগের রোববারগুলোয় মাত্র ১০ থেকে ১২টির অর্ডার পেতাম।’
সিটি ইউনিভার্সিটির ধর্ম ও রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সারা সিলভেসত্রি বলেন, ‘চার্লি হেবদো ও নিসে হামলার পর থেকে ফরাসি রাজনীতিবিদরা ইসলাম ভীতি সৃষ্টি করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। এটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেবে মানুষকে।’