২৯ আগস্ট ২০২৫ - ১৬:৩৭
প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিলে সমাধান করা হবে।

তিন দফা দাবিতে শাহবাগ অবরোধের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আন্দোলনরত প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রস্তাব দিলে সচিব কমিটি তাদের সমস্যা সমাধান করে দেবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।



তিন দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় ৫ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিলেন বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) সারাদেশের প্রকৌশলীদের নিয়ে ‘‘লং মার্চ টু ঢাকা’’ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দাবি মেনে না নেওয়ায় আন্দোলনরত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে রওনা দিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ে সচিব বলেন, ‘‘তারা (আন্দোলনরত প্রকৌশলী) যদি তাদের দাবিগুলো স্মারকলিপি আকারে দেন, এগুলো নিয়ে তারা অনেক রিসার্চ করেছেন, তাদের কাছে আইন-কানুন আছে, এগুলো যদি অ্যাটাচ করে দেন, আমরা অল্প সময়ে এটা সমাধান করে দিতে পারব।

আমাদের কাছে কোনো আবেদন আসেনি আমরা বিষয়টি শুনেছি। এখন আপনারা আমার কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেছেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা ভুক্তভোগী তারা তাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটা আনবে। আমরা এটা ইতিবাচকভাবে (পজিটিভলি) দেখব, আমরা এটা ফেলে রাখবো না।

’’বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা যেমন দাবি করছেন, অন্যদিকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরাও আন্দোলনে নেমে গেছে- বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘‘দুটিই তো সরকারের।

বেসরকারি নিয়ে তো কোনো সমস্যা নেই। সরকারের সুবিধা যারা বেশি খায়, সমস্যা তারাই বেশি সৃষ্টি করে। এনারা যে প্রস্তাব নিয়ে আসতেছেন আমরা সমাধান করার জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রস্তাব আসলে আমরা সবাইকে ডাকবো।’’

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নবম গ্রেডের ইঞ্জিনিয়ারিং পদ বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং প্রার্থীর কমপক্ষে বিএসসি ডিগ্রি থাকতে হবে।

কোটার মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এমনকি বিভিন্ন নামে সমমানের পদ সৃষ্টি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।

দশম গ্রেডের কারিগরি পদ বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি না থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা ৬ মাস ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সরকার এসব দাবি পূরণে কাজ করেনি। সরকার তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha