আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য ঘোষণা করে বাংলাদেশের শিয়া ওলামা পরিষদ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। যেখানে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উস্কানি, প্রকাশ্য হুমকি এবং বেআইনি কার্যকলাপকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে এবং এ ধরনের আচরণকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
বাংলাদেশের শিয়া ওলামা পরিষদের বিবৃতি নিম্নরূপ:
بسمه تعالی
قال الله سبحانه تعالی: فَقُتِلُوا أَئِمَّةَ الْکُفْرِ إِنَّهُمْ لَا أَیْمَنَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ یَنتَهُونَ
আমরা বাংলাদেশের শিয়া আলেমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আবারও রক্তপিপাসু ও অপরাধী মার্কিন সরকার, সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিয়মকানুনকে পদদলিত করে, উন্মত্তভাবে বিপুল সেনা সমাবেশ ও মানুষের জন্য সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রসজ্জার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্ত ঘিরে ফেলেছে।
তারা এমনকি বিশ্বের শিয়া মাযহাবের সর্বোচ্চ মারজায়ে তাকলিদ ও মুসলিম উম্মাহর নেতার জীবননাশের হুমকিও প্রকাশ্যে দিচ্ছে — যা এক অভূতপূর্ব দুঃসাহস ও রাজনৈতিক উগ্রতার পরিচয় বহন করে।
বাংলাদেশের শিয়া ওলামা পরিষদ মহান নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও সমর্থন জানিয়ে, মার্কিন সরকার ও তার বেহায়া মিত্রদের এই বিপজ্জনক সামরিক পদক্ষেপ, বেআইনি হুমকি ও ষড়যন্ত্রকে কঠোরভাবে নিন্দা করছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক বা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই পরিষদ বিশ্বাস করে— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধোন্মত্ত আচরণ আসলে ইসরাইলি জায়নিজমের অন্ধ আনুগত্যের ফল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
বিশ্ববাসী জানে যে, শয়তানের আকম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত নিরপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত; এটি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা এবং বিশৃঙ্খলার প্রকৃত উৎস। সাম্প্রতিক ইরানের ঘটনাবলী এই বাস্তবতার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
অতএব, বাংলাদেশের শিয়া ওলামা পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষভাবে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে— তারা যেন মার্কিন সরকারের রক্তলোলুপতা ও উন্মাদনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক হত্যাযজ্ঞ রোধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
পরিষদ আবারও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, মহান নেতা ও জনগণের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন ঘোষণা করছে এবং বিশ্বাস করে যে আত্মরক্ষা ইরানের জনগণের বৈধ অধিকার। মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনে ‘আগ্রাসনের অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে, কেননা এর কোনো প্রতিরক্ষামূলক বৈধতা নেই।
শেষে, আমরা মহান ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি যিনি ইরানের জনগণকে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন, সন্ত্রাসী শক্তিদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধকে মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং দৃঢ়ভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে—
“আমেরিকা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না!”
ইন শা’আল্লাহ, এবারও আগ্রাসী শক্তি তাবাসের ঘটনার চেয়েও তিক্ত পরিণতির মুখোমুখি হবে।
نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِیبٌ ، وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِینَ
والسلام

Your Comment