আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী টেলিভিশন বার্তায় ২২ বাহমানকে ইরানি জাতির শক্তি ও মর্যাদা তুলে ধরার দিন হিসেবে অভিহিত করে জোর দিয়ে বলেছেন যে বিজয় বার্ষিকীর র্যালিতে জনগণের উপস্থিতি এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ শত্রুকে ইরানের মোকাবেলায় পিছু হটতে বাধ্য করবে।
তিনি বলেছেন, ২২ বাহমান বিজয় বার্ষিকীর জনসমাবেশে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়ে আপনাদের ইচ্ছাশক্তি এবং অবিচলতা প্রদর্শন করে শত্রুকে হতাশ করে দিন। বিপ্লবের নেতার টেলিভিশন বার্তার পাঠ্য নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
প্রতি বছর, ২২ বাহমান ইরানী জাতির শক্তি ও মর্যাদা প্রকাশের দিন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আপনারা অনুপ্রাণিত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অবিচল, কৃতজ্ঞ এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন একটি জাতি।
ওই বছরের ২২ বাহমান, ইরানী জাতি এক মহান বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বিদেশী হস্তক্ষেপ থেকে নিজেকে এবং দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর এই দীর্ঘ বহু বছর ধরে বিদেশীরা সবসময় ইরানকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে।
ইরানী জাতি দৃঢ় চিত্ত। ২২ বাহমান প্রতিরোধের মূর্ত প্রতীক। এই দিবসের পদযাত্রা বিশ্বের মধ্যে অনন্য। আমরা বিশ্বের কোথাও কখনও দেখিনি যে এতো বছর পরে এসেও প্রতি বছর দেশের স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবসে দেশ জুড়ে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। আজ, ইরানী জাতি রাস্তায় নেমে এসে ইসলামী ইরান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এই জাতির সাথে শত্রুতাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করতে নিজেকে প্রদর্শন করছে।
জাতীয় শক্তি আসলে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানের চেয়ে জাতিগুলোর ইচ্ছা ও প্রতিরোধের সাথে বেশি সম্পর্কিত। আল্লাহকে ধন্যবাদ যে, আপনারা প্রতিরোধ এবং নিজেদের ইচ্ছাশক্তিকে দেখিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবারও তা দেখিয়ে দেন, শত্রুকে হতাশ করে দিন। শত্রু যতক্ষণ পর্যন্ত না হতাশ হবে ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতি নির্যাতন দুর্ভোগের সম্মুখীন হবে। তাই, শত্রুকে অবশ্যই হতাশ করে দিতে হবে।
শত্রুরা তখনই হতাশ হয়ে পড়ে যদি আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকেন, সঠিক চিন্তাভাবনা করেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও প্রেরণা বজায় রাখেন এবং প্রলোভন ও উস্কানির ফাঁদে না পড়েন। এসবই হচ্ছে, জাতীয় শক্তি।
ইন শা আল্লাহ, আমাদের তরুণরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে, ধর্মপরায়ণতা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে, বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব এগিয়ে যাবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। ২২ বাহমানের সমাবেশেই তারা তা দেখিয়ে দেবে। সবাই রাস্তায় নেমে আসবে, স্লোগান দেবে, সত্য ঘোষণা করবে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি তাদের সংহতি ও আনুগত্য প্রকাশ করবে।
আমরা আশা করি, ইন শা আল্লাহ, বিগত বছরগুলোয় পালিত বিজয় বার্ষিকীর মতো এবারের ২২ বাহমানও ইরানী জাতির গৌরব বৃদ্ধি করবে এবং অন্যান্য জাতি, সরকার, বৃহৎ শক্তিগুলোসহ অন্যান্যরা ইরানী জাতির সামনে বিনীত হতে বাধ্য হবে, যা ইন শা আল্লাহ, হবে।
Your Comment