আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): কাওসার কালচারাল সেন্টারের আওতাধীন আহলুল বাইত (আ.) মসজিদে আরবাইন শোকানুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে তুরস্কের ‘আহলুল বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব ইউসুফ তাজেগুন একটি বিস্তারিত ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর ভাষণে আরবাইন পদযাত্রা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) অবস্থান এবং এই বিশাল আন্দোলনের ভূ-রাজনৈতিক দিকগুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
নিজের বক্তব্যের শুরুতে তাজেহ-গুন বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ‘লাইসিটে’ (laïcité)-র প্রসারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে, এসব আন্দোলন এমন এক ধারণার জন্ম দিয়েছিল যেন সামাজিক পরিসর থেকে ধর্মকে পুরোপুরি নির্মূল করা হয়েছে; তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় সেই সমীকরণকে ওলটপালট করে দেয় এবং প্রমাণ করে যে, সমাজজীবনে সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা ঐশী বার্তা ও আধ্যাত্মিকতার আজও অটুট রয়েছে।
তুরস্কের ‘আহলুল বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব উল্লেখ করেন যে, বাইরের কিছু পর্যবেক্ষক আরবাইনকে কেবল শোক ও কান্নাকাটির একটি আচার হিসেবেই দেখেন; তিনি এই ধারণাকে একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইমাম হুসাইনের (আ.) সেই চিরন্তন স্লোগান—"অপমান মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব"—ই হলো আরবাইন তীর্থযাত্রার মূল চেতনা, এবং বর্তমান আঞ্চলিক ঘটনাবলিতেও এই সংস্কৃতিরই প্রতিফলন ঘটছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি আরবাইন তীর্থযাত্রায় দৃশ্যমান সংহতি ও আত্মত্যাগের মনোভাবকে মহানবী (সা.)-এর যুগের সেই আদর্শ সমাজেরই প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, তীর্থযাত্রীদের প্রতি ইরাকি জনগণের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও আন্তরিক সেবা আত্মত্যাগের সংস্কৃতির এক বিরল দৃষ্টান্ত; সরকারি কাঠামোর বাইরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে পারে।
Your Comment