২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২১:২৬
এক সপ্তাহের উত্তাল জাতিসঙ্ঘ : ছয় বড় ঘটনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ, এআই নিয়ে উদ্বেগ থেকে জাতিসঙ্ঘের ভবিষ্যৎ—নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের ব্যস্ত সপ্তাহে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নিউইয়র্কে এক সপ্তাহের বক্তৃতা, বৈঠক আর করিডোর কূটনীতি শেষে শুক্রবার বিশ্বনেতারা একে একে জাতিসঙ্ঘ ছাড়ে।

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল সংঘাতগুলোতে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা কিছুটা এগিয়েছে। একই সময়ে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বশক্তিগুলো শিল্প খাতের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছে।

ইরান নিয়ে কূটনীতির নতুন চেষ্টা

রয়টার্স শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলে, তেহরান ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেয়া। তবে দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন কাজ করতে হবে।

ইউক্রেনের শস্য ও জ্বালানি

রুবিও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে বৈঠক করে। পরে সে জানায়, শস্য ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সীমিত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই আগ্রহ দেখিয়েছে। শীতের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা এবং কৃষ্ণসাগরের নৌ চলাচল নিয়ে সীমিত সমঝোতা চায় ইউক্রেন ও তার মিত্ররা। তবে লাভরভ পরে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ইউরোপ শুধু যুদ্ধ থামিয়ে সেই সময় ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে চায়।

জলবায়ুর জায়গা দখল করল এআই

জাতিসঙ্ঘের আলোচনায় এবার জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। শীর্ষ গবেষকেরা এর সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ও অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই অংশ নেয়। তারা এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারগুলোর যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানায়।

ভেনেজুয়েলার চমক

জাতিসঙ্ঘে সবচেয়ে চমকপ্রদ আগমন ছিল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের সাথে এটাই ছিল তার প্রথম সরাসরি বৈঠক। ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল মূলত দেশটির বিপুল সরকারি ঋণ কীভাবে নতুন শর্তে পুনর্বিন্যাস করা যায়, সে বিষয় নিয়ে তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সাথে আলোচনা করেছে।

বুরহানের অনুপস্থিতি

সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতি ছিল সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের। যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসা আটকে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সুদানের রাজধানী খার্তুমের আপত্তির কারণেই বুরহানের ভিসা আটকে দেয়া হয়ে থাকতে পারে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

অর্থসংকটে জর্জরিত জাতিসঙ্ঘ হয়তো এখন আর দ্রুত অবনতির পথে নেই। তবে এখনো এটি 'অনির্দিষ্ট সংকটে' আটকে আছে বলে আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান মনে করেন। কমে আসা বাজেট, প্রভাবহ্রাস এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সংস্থাটি নতুন মহাসচিবের অপেক্ষায়।

আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের দৌড়ে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রার্থী এগিয়ে নেই। দায়িত্ব যিনিই নিন, সংকট, হতাশা ও রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা কমে যাওয়া একটি জাতিসঙ্ঘই তার হাতে যাবে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha