২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৭:৪২
প্রতিরোধের সাইয়্যেদ জীবিত আছে।

লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জোর দিয়ে বলেছে: শত্রুর ভুল ধারণা ও অসৎ উদ্দেশ্য সত্ত্বেও তাঁর পবিত্র রক্তের জ্যোতি ম্লান হয়ে যায়নি; বরং তা প্রতিরোধ আন্দোলনের সত্তায় শক্তি ও প্রাণশক্তির এক প্রবহমান উৎসে পরিণত হয়ে অমরত্ব লাভ করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতবরণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘প্রতিরোধের নেতা’র পথকে চিরস্থায়ী হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে তাঁর পবিত্র রক্তকে প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্য শক্তির এক অফুরন্ত উৎস এবং হিজবুল্লাহ ও লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীর সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই বিবৃতির একটি অংশে বলা হয়েছে: সেই রক্তক্ষয়ী দিন ও জঘন্য সন্ত্রাসী নৃশংসতার পর দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে—যেদিন অশুভ জায়নবাদী শাসনের অপরাধী হাত ‘প্রতিরোধের কাণ্ডারি’ ও স্বাধীনতার পতাকাবাহী হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে ইসলামি প্রতিরোধ ফ্রন্ট—এবং বিশেষ করে লেবাননের বীরত্বপূর্ণ হিজবুল্লাহ—থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।

অথচ শত্রুর প্রত্যাশা ও অশুভ অভিপ্রায়ের বিপরীতে, তাঁর পবিত্র রক্তের দীপ্তি ম্লান হয়ে যায়নি; বরং তা প্রতিরোধ আন্দোলনের সত্তায় শক্তি ও প্রাণশক্তির এক উচ্ছ্বসিত ধারায় রূপান্তরিত হয়ে অবিনশ্বর হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ কেবল একজন নেতাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন আধুনিক প্রতিরোধ সংগ্রামের কৌশলগত রূপকার—যিনি রণক্ষেত্র ও কূটনৈতিক অঙ্গন—উভয় ক্ষেত্রেই ছিলেন এক দক্ষ কৌশলবিদ এবং এই অঞ্চলের সংগ্রামী জাতিসমূহের মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের এক মূর্ত প্রতীক।

তাঁর নেতা ও পথপ্রদর্শক—শহীদ ইমাম খামেনি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর আদর্শ অনুসরণ করে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামকে কেবল একটি সাধারণ কৌশল বা কর্মপদ্ধতির স্তর থেকে উন্নীত করে এক সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক, আত্মপরিচয়-ভিত্তিক ও সভ্যতা-কেন্দ্রিক কাঠামোয় রূপ দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, প্রতিরোধ কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং এক মর্যাদাপূর্ণ ও ক্ষমতায়নকারী জীবনধারা।

বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে: নিঃসন্দেহে, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর প্রদর্শিত পথ—সর্বোচ্চ মহিমা, সম্মান ও শক্তির সাথে—লেবানিজ ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের নেতৃত্বে অব্যাহত থাকবে; যার নেতৃত্বে থাকবেন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হুজাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন শেখ নাইম কাসেম।

ঠিক যেমন দক্ষিণাঞ্চলের অভূতপূর্ব প্রতিরোধ—এবং ‘আলি আল-তাহির’-এর মতো বীরত্বপূর্ণ ও ইতিহাস-সৃষ্টিকারী ঘটনা—বিপরীতমুখী অভিবাসনের (বসতি স্থাপনকারীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার) প্রবণতাকে তীব্রতর করেছে এবং জায়নবাদী শাসনের আসন্ন পতনকে ত্বরান্বিত করার বার্তা দিচ্ছে।

এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ সমগ্র অঞ্চলজুড়ে ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’—বিশেষ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্র ও ভুয়া জায়নবাদী শাসকের চালানো ১২-দিন ও ৪০-দিনের যুদ্ধের পর থেকে—প্রমাণ করেছে যে তারা আধিপত্যবাদ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং অবিচলতার প্রতীক।

এই বিবৃতির শেষে, ‘ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ’ (আইআরজিসি)—দুই মহান ইমাম ও বিপ্লবের শহীদদের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর শহীদদের—বিশেষ করে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও মেজর জেনারেল আব্বাস নিলফোরুশানের—মহৎ আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে—বর্তমান সভ্যতাগত ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মাঝে ইসলামের বীর যোদ্ধাদের দ্বারা কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব বজায় রাখা হয়েছে, তাকে ঐশ্বরিক বিজয়ের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার ফসল হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে:

আমরা আবারও বলিষ্ঠ কণ্ঠে এবং সর্বোচ্চ অবিচলতা ও কর্তৃত্বের সাথে ঘোষণা করছি যে—প্রতিরোধ ফ্রন্টকে সমর্থন করা, নিপীড়িতদের অধিকার রক্ষা করা এবং পবিত্র কুদসের পূর্ণ মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে অটল থাকা—এসবই হলো শক্তিশালী, জননন্দিত ও বিপ্লবী আইআরজিসি (IRGC) এবং দেশের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর এক চিরন্তন, জাতীয় ও মানবিক মিশন।

মহান আল্লাহর কৃপায়—এবং সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর (তাঁর ছায়া দীর্ঘস্থায়ী হোক) নির্দেশনায়, পাশাপাশি ঐশ্বরিক প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ইরানি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ও শক্তিশালী অংশগ্রহণ এবং সকল ফ্রন্টের ঐক্যের বদৌলতে—'মহা শয়তান' (সন্ত্রাসী আমেরিকা), তার হিংস্র কুকুর (দখলদার জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা) এবং তাদের সহযোগীদের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না; ইসলামের যোদ্ধারা ভবিষ্যতের ইতিহাস রচনা করবে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এক পা-ও পিছু হাটবে না।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha