৯ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:৪৭
গাজা: সাংবাদিকদের জন্য এক বধ্যভূমি

গাজায় তিন বছর ধরে চলা গণহত্যামূলক যুদ্ধ কেবল ওই অঞ্চলের ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করেনি, বরং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জগতের ওপরও এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): গাজায় জায়নবাদী সরকারের তিন বছরের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকতা-বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২৬৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন; পাশাপাশি আরও শত শত সাংবাদিক আহত, আটক কিংবা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এই যুদ্ধে সাংবাদিকরা তাঁদের ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন; সংঘাতের খবর সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে অনেককেই ধ্বংসস্তূপ, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির ও হাসপাতালের মধ্যে প্রতিনিয়ত ছুটতে হয়েছে।

জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখলেও, তারাই এই উপত্যকার পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি সম্পর্কে সরেজমিন সংবাদ সংগ্রহের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছেন।

গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের সময় জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ২৬৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা করেছে। তিনি আরও জানান যে ৫০ জন সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জন এখনও আটক রয়েছেন।

আল-থাওয়াবতেহ জানিয়েছেন যে, জায়নবাদী সরকারের হামলায় ১৬টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, ১১টি রেডিও স্টেশন, ১২টি সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন কার্যালয়, ২৩টি ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, ২৭টি ছাপাখানা এবং গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পেশাজীবী ও আইনি সংগঠনের কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

আল-থাওয়াবতেহ গাজার গণমাধ্যম খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছেন—যে হিসাবের মধ্যে ভবন, সরঞ্জাম, সম্প্রচারকারী যানবাহন এবং কারিগরি যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস’ (আইএফজে) এক বিবৃতিতে জানায় যে, গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা আধুনিক সাংবাদিকতার ইতিহাসে নজিরবিহীন। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, নতুন তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে এই তালিকা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha