আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): গাজার বিরুদ্ধে জায়নবাদী সরকারের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিন-সমর্থক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একই সাথে, বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি ওই সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। এসব সমাবেশের সময় মেলবোর্নের ‘স্টেট লাইব্রেরি অফ ভিক্টোরিয়া’-তে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করা হয় এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ছবি তুলে ধরা হয়, যেখানে তাঁকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড হাতে থাকা অবস্থায় চিত্রিত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত এখনও নেতানিয়াহুকে পলাতক হিসেবে গণ্য করছে। অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, রবিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে আরও ফিলিস্তিন-পন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এক বিবৃতিতে ‘অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কোয়ালিশন’ এবং ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল’ জোর দিয়ে বলেছে যে, জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার তিন বছরব্যাপী হামলার ফলে ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসলীলা, বাস্তুচ্যুতি, অনাহার ও অকল্পনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।
সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির ওপর সর্বাত্মক ও দ্বিমুখী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া তারা দাবি জানিয়েছে যেন অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা কর্তৃক ব্যবহৃত এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের সরবরাহ শৃঙ্খলেও অস্ট্রেলিয়া যুক্ত রয়েছে; দেশটির ৭০টিরও বেশি কোম্পানি এই বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে থাকে। তবে অস্ট্রেলীয় সরকারের দাবি হলো, তারা সরাসরি ওই শাসনব্যবস্থাকে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ সরবরাহ করে না।
মুসলিম সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; তবে এই পদক্ষেপের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমও গ্রহণ করা আবশ্যক।
Your Comment