আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলে জার্মান অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করার, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানোর এবং গাজা উপত্যকায় সংঘটিত অপরাধের জন্য দখলদার শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীরা উত্তর বার্লিনের ওসলোয়ার স্ট্রাসে (Osloer Straße)-তে সমবেত হন। এরপর তারা ওই এলাকার রাস্তা ধরে মিছিল করে ওয়েডিং স্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, যাতে চলমান গণহত্যা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের নীতির নিন্দা জানানো হয়।
স্লোগানগুলোতে দখলদার শাসকের প্রতি জার্মানির সামরিক সমর্থনের বিরোধিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— "গণহত্যা বন্ধ করো", "ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করো" এবং "দখলদারিত্ব, ভূমি দখল ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের কোনো বৈধতা নেই"।
অন্যান্য স্লোগানে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয় যে, "ফিরে যাওয়ার অধিকার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় না"। ১৯১৭ সালে জারি করা 'বালফোর ঘোষণা'-র প্রসঙ্গ টেনে বিক্ষোভকারীরা এমন সব স্লোগান দেন, যেখানে এই ঘোষণার ঐতিহাসিক পরিণতির সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের বর্তমান দুর্দশার যোগসূত্র স্থাপন করা হয়—যে দুর্দশার মূলে রয়েছে দখলদারিত্ব, উচ্ছেদ এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা।
অংশগ্রহণকারীরা দখলদারদের সমর্থন করার ক্ষেত্রে জার্মানির ভূমিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের অভ্যুত্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভ থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে ছিল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলে জার্মান অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া। দখলদার শাসকের কাছে অস্ত্র রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে জার্মানিতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে।
এই বিক্ষোভগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায় যে, ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য জার্মানির দেওয়া রপ্তানি লাইসেন্সগুলোর মূল্য ২০২৬ সালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
জার্মানির রাজধানীর কয়েকটি রাস্তা প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি শেষ পর্যন্ত ওয়েডিং এলাকায় গিয়ে শেষ হয়; পুরো সময়জুড়ে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল।
Your Comment