১৭ আগস্ট ২০১০ - ১৯:৩০

ইসলামী বিপ্লবের আদালতের নির্দেশ মোতাবেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী আব্দুল মালেক রিগী ওরফে আব্দুল মালেকে’র ফাঁসী আজ ভোরে তার সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এভিন কারাগারে কার্যকর হয়েছে।

তেহরানের ইনকিলাব ও ফৌজদারী আদালতের নিজস্ব ওয়েব সাইটের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, আব্দুল মালেক রিগীর সন্ত্রাসকর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে তেহরানের ইসলামী বিপ্লব আদালতের বিচারসভার প্রধান জর্জ তাওহিদী, রিগী তার উপর করা ৭৯টি মামলায় আসামী প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধানের শাস্তি বিষয়ক অনুচ্ছেদের ১৮৩, ১৮৫, ১৮৬, ১৯০ ও ১৯১ নং ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত রায় তার সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের উপস্থিতিতে তাকে ফাঁসীতে ঝুঁলিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। আসামী আব্দুল মালেক রিগী ইরানের পূর্ব অঞ্চলের ইসলামী বিপ্লব বিরোধী একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধান, গত বছর ইরানের নিরাপত্তা কর্মীদেরকে বিচক্ষণতায় সে গ্রেপ্তার হয়। ইতিপূর্বে সে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী দল গঠনের মাধ্যমে ছিনতাই, ডাকাতি, জন সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, সামরিক ও শৃংখলা রক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং নিরাপরাধ মানুষের উপর স্বশস্ত্র হামলা, হত্যা, চাঁদাবাজী, ত্রাস সৃষ্টি, নিরাপত্তা বিনষ্ট, অপহরণ, জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবী এবং আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে সহযোগিতা এবং তাদের নিকট হতে আর্থিক সহযোগিতা লাভ ও তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি অপরাধের সাথে সে জড়িত ছিলে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার অপরাধকর্মের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নে দেয়া হল: ১। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ইরানসহ অত্র অঞ্চলে নিরাপত্তা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে জোন্দোল্লাহ সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন এবং তার নেতৃত্ব দান। ২। ১৫টি স্বশস্ত্র অপহরণে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং নির্দেশ দান। ৩। অস্ত্র বহন এবং চোরাচালান। ৪। মহাসড়কসমূহে ত্রাসসৃষ্টি ও মহাসড়কে ৬টি সশস্ত্র ডাকাতি। ৫। ৪টি হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার। ৬। বোমা বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে সামরিক ও শৃংখলা রক্ষী বাহিনী এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যার নির্দেশ দান। ৭। অস্ত্র ও গাড়ী চোরা চালানি। ৮। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে চুরি, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে জনগণের সম্পদ হাতিয়ে নেয়া এবং মাদক দ্রব্য পাচারকারী ও বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ। ৯। বিপ্লব বিরোধী টিভি চ্যানেলসমূহে দেয়া বিভিন্ন সাক্ষাতকারের মাধ্যমে ইসলামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। ১০। ন্যাটোর সহযোগিতায় বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সাথে যোগাযোগ স্থাপন। এছাড়া আরব দেশসমূহের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন এবং ‘মুজাহিদীনে খালক’ নামক ইসলামী বিপ্লব বিরোধী দলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন। ১১। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হতে অবৈধভাবে অন্যান্য দেশে যাতায়াত। উল্লেখ্য যে, আব্দুল মালেক রিগী নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী দল ২০০৩ সাল হতে এ পর্যন্ত ইরানের অভ্যন্তরে ও বিদেশে ৩৫টি মুক্তিপণ দাবী, ২৫টি চাঁদাবাজী, ৪০টি মহাসড়কে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে বাধাদান এবং বিস্ফোরণ ঘটানো (যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ১৫৪ জন নিহত এবং অপর ৩২০ জন আহত হয়) ইত্যাদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আব্দুল মালেক রিগী তার উপর আনা অভিযোগসমূহের বেশ কয়েকটির সাথে সরাসরি জড়িত থাকা বা সেগুলো করার নির্দেশ দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া সে আরো স্বীকার করেছে যে, বোমা বিস্ফোরণের ও বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তার নির্দেশেই ঘটানো হত। এ রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, বিচারকার্যের এ সভায় সরকার ও বাদী পক্ষের প্রতিনিধিগণ, বিবাদীর উকিল, অভিযোগদাতারা, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারবর্গ এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের উকিল অভিযোগলিপি পাঠের পর তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন। এর পাশাপাশি আব্দুল মালেক রিগী তার প্রতি দেয়া সকল অভিযোগকে মেনে নিয়ে নিজের অপরাধকর্মসমূহের জন্য ভুল স্বীকার করে জানায় যে, তার সকল অপরাধকর্ম ধর্ম ও মানবতা বিরোধী ছিল। এ সময় সে তার সন্ত্রাসী দলের অপর সদস্যদেরকে তার ন্যায় ভুল না করার প্রতি আহ্বান জানায়। অতঃপর সে বাদী পক্ষের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আদালতের রায় দানের পর, নিয়ম মাফিক আসামীকে সে সম্পর্কে অবগত করা হলে সে বলে: আমি এ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কিন্তু আসামীর এ আবেদনকে প্রধান বিচারক নাকচ করে দেন। উল্লেখ্য যে, রিগীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তার বিচার কার্য তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়।#