আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: পাকিস্তানের মরহুম নেতা আল্লামা সৈয়দ আরেফ হুসাইন হুসাইনী’র স্মরণে আয়োজিত এ সম্মেলন পবিত্র কোম নগরীতে বসবাসরত পাকিস্তানী ছাত্রদের উপস্থিতিতে, ‘ইসলামী সমাজে নেতৃত্বের গুরুত্ব’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের শুরুতে পাকিস্তানে ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আল উজমা সৈয়দ আলী খামেনেয়ী’র প্রতিনিধি সৈয়দ সাজেদ আলী নাকাভী’র বাণী পাঠ করা হয়।
এ বাণীতে বলা হয়েছে যে, ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের উচিত সমাজে বিদ্যমান সকল সমস্যাদি আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) এর প্রদত্ত শিক্ষার ছায়ায় সমাধান করা।
রাহবারে’র এ প্রতিনিধির বাণী’তে আরো উল্লেখিত হয়েছে, এ প্রায়াত নেতা পাকিস্তানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আর তার সংগ্রাম শুধুমাত্র শিয়া মাযহাব কেন্দ্রিক ছিল না বরং সকল ইসলামী মাযহাব ও নিপীড়িতদের জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন।
এ বাণী’র অপর অংশে বলা হয়েছে যে, আল্লামা আরেফ হুসাইন হুসাইনী খুবই অল্প দিন নেতৃত্ব দিতে পারা সত্ত্বেও তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলী তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। অতএব, যদি বর্তমানে মুসলমি বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ কোন পদক্ষেপ নিতে চাই তবে শহীদ আরেফ হুসাইন হুসাইনীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
লাহোরে অবস্থিত জামেয়াতুল মুন্তাযার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাফেজ রিয়াজ হুসাইন নাকাভী ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হযরত আলী (আ.) এর শাসনকালে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি ইশারা করে বলেন: আমিরুল মু’মিনীন (আ.) ন্যায় নীতি অবলম্বনের কারণে শহীদ হন।
তিনি বলেন: মুসলমানরা যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে চায় তবে তাদের উচিত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) ও আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী (আ.) কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা।
এ সময় তিনি জ্ঞানার্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন: ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জন অতীব জরুরী।
প্রফেসর নেসার আহমাদ ইরানে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসন ব্যবস্থা, অন্য যে সকল দেশ প্রকৃত ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ স্বরূপ।
তিনি বলেন: পাকিস্তানে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত শাসন ব্যবস্থা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সেগুলোর সমাধানে পাকিস্তানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যায় ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা প্রয়োজন। কেননা এ শাসন ব্যবস্থার সকল আইনই পবিত্র কোরআন হতে গৃহীত হয়েছে। আর তাছাড়া এর মূলে রয়েছে একজন সচেতন, ও ন্যায়বিচারক নেতা। আর গুরুত্বপূর্ণ এ ২টি বিষয় প্রতিটি সমাজকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি নির্দেশনা দেয়।
জনাব আহমাদ নেসার আরো বলেন: এ বিষয় বাস্তবায়নে পাকিস্তানের শিয়াদের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন ও চালাচ্ছেন। তাই এ ধরণের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা অতীব জরুরী।
উল্লেখ্য যে, শহীদ আল্লামা সৈয়দ আরেফ হুসাইন হুসাইনী (র.) ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদত বরণ করেন।#