১৮ অক্টোবর ২০১০ - ২০:৩০

যে ব্যক্তি এ মাসে ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে রোজা রাখে, যখন রমজান মাস শেষ হয়ে যায় তখন সে যেমনভাবে একটি শিশু সকল প্রকার পাপ মুক্ত অবস্থায় তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ সেভাবে ঐ রোজাদার ব্যক্তি সকল গুনাহ হতে মুক্ত হয়ে যায়। রোজার সাথে সম্পৃক্ত সহজতম মাসআলাটি হল নিয়তের বিষয়ে। এ বিষয়টি সম্পর্কে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে পড়ে।

রোজাদারদের কর্তব্য হচ্ছে মনোযোগের সাথে কোরআন তেলাওয়াত করা (অর্থাৎ যা কিছু সে তেলাওয়াত করছে তার উপর চিন্তা করা)... আর এ ক্ষেত্রে সরকারেরও উচিত অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে জনগণের সমস্যা সমূহ সমাধানের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়া।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজী গতকাল দুপুরে হযরত মাসুমা (সা. আ.) এর পবিত্র রওজা শরিফে বক্তৃতাকালে, পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে হযরত মহানবী (স.) হতে বর্ণিত একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন: এ মাসে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণে বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এছাড়া আল্লাহর সম্পূর্ণ মাসটি মহান আল্লাহর মেহমান হয়ে থাকা ও প্রবৃত্তির চাহিদাসমূহ দমনের মাস। হযরত মহানবী (স.) এর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে এ মাসে রোজা রাখে, যখন রমজান মাস শেষ হয়ে যায় তখন সে যেমনভাবে একটি শিশু সকল প্রকার পাপ মুক্ত অবস্থায় তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ সেভাবে রোজাদার ব্যক্তি সকল গুনাহ হতে মুক্ত হয়ে যায়।

তিনি রোজা সংক্রান্ত কিছু কিছু মাসআলা বর্ণনা করে বলেন: রোজা’র মাসআলা সমূহের মাঝে সবচেয়ে সহজতম মাসআলা হচ্ছে রোজার নিয়ত। যা সম্পর্কে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দের শিকার হয়। আর নিয়ত হচ্ছে, শুধুমাত্র রোজা রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টি স্মরণে থাকলে তা যথেষ্ট। আর এ ক্ষেত্রে মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয় এবং সম্পূর্ণ রমজান মাসের জন্য একবার নিয়তে করলেও তা যথেষ্ট হবে।

শিয়া বিশ্বের এ মহান মারজা, অসুস্থ, গর্ভবতী নারী ও যে মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় এদের উপর রোজা রাখা ওয়াজিব নয় –এ কথা উল্লেখ করে বলেন: যে সকল রোগী’র জন্য রোজা ক্ষতিকর এবং যদি তারা রোজা রাখে তবে তাদের অসুস্থতা বেড়ে যেতে পারে অথবা রোগ সারতে অধিক সময় লাগতে পারে বা ঐ বয়স্ক ব্যক্তি যে রোজা রাখার কারণে তার শরীর খুবই দূর্বল হয়ে পড়ে, এদের জন্য রোজা রাখা ওয়াজিব নয়। (অসুস্থতা এবং দূর্বলতা হতে নিরাময় লাভের পর ভেঙ্গে ফেলা রোজা সমূহের কাযা করতে হবে)

এছাড়া কোন গর্ভবতী নারী রোজা রাখার কারণে যদি তার গর্ভে বিদ্যমান বাচ্চা ক্ষতির সম্মুখীন হয় বা মা রোজা রাখার কারণে যদি দুগ্ধপায়ী শিশু ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাদের উপর রোজা ওয়াজিব নয়।

হাওযা ইলমিয়া (উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)’র প্রখ্যাত এ উস্তাদ রোজাদারদের কর্তব্যের প্রতি ইশারা করতে গিয়ে বলেন: এ মাসে মনোযোগের সাথে কোরআন তেলাওয়াত করা রোজাদারের অন্যতম কর্তব্য। আর স্বল্প পরিমাণে মনোযোগের সাথে তেলাওয়াত করা অমনোযোগীভাবে অধিক তেলাওয়াত অপেক্ষা উত্তম। যেভাবে আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) খোতবায়ে হাম্মামে বলেছেন: তার হচ্ছে আল্লাহর বান্দা, যারা যখন কোরআনের ভয় ভীতি প্রদর্শনকারী ও উৎসাহ দানকারী আয়াতের সম্মুখীন হয় তখন তারা সে আয়াতের উপর মনোযোগী হয়ে চিন্তা করে এবং তার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে ঐ আয়াতকে অনুভব করে। অতঃপর কেয়ামতের দিনে উক্ত আযাব তুলে নেয়া এবং উক্ত পুরুস্কার প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে।

আয়াতুল্লাহ আল উজমা মাকারেম শিরাজী তার বক্তৃতার শেষে সরকারী কর্মকর্তাদেরকে অন্যান্য বিষয়ের মনোযোগী না হয়ে সাধারণ জনগণের সমস্যা সমূহ দূরীকরণে সচেষ্ট হওযার প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, আয়াতুল্লাহ আল উজমা মাকারেম শিরাজী’র পবিত্র কোরআনে করিমে ধারাবাহিক তাফসির ক্লাস আগামীকাল হতে হযরত মাসুমা (সা. আ.) এর মাজারে অনুষ্ঠিত হবে।#