আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ওবামা গত পরশু ফ্লোরিডা অঞ্চলে হতে পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন: ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী স্থানে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তের সঠিক (বা ভুল) হওয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য আমি করব না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী স্থানে মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে ওবামা’র লোক দেখানো মৌখিক সমর্থন, মুসলমানদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মম ও রক্তক্ষয়ী চেহারাকে মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে তিনি করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সরকারের বদৌলতে সৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে এ অঞ্চলের সাধারণ জনগণের মনে নেয়া জন্ম নেয়া ঘৃনা দূর করার চেষ্টায় তিনি এ ধরনের নাটকের আশ্রয় নিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইফতার পার্টিতে ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী স্থানে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে সমর্থন জানান।
তিনি একজন মার্কিন নাগরিক ও এ দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ দাবী করেছেন যে, মুসলমানরা অন্যান্য মার্কিন জনগণের ন্যায় তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের অধিকার রাখে।
তিনি বলেন: আর এ অধিকার ধর্মীয় অনুষ্ঠাদি পালন ও ইবাদতের স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
টুইন টাওয়ারের পাশ্ববর্তী স্থানে মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমর্থনের পরই তার বিরোধীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি ‘পিট কিং’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যায়িত করে বলেছেন: টুইন টাওয়ারের পাশে মসজিদ নির্মাণ করা হলে, ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনায় নিহত মার্কিন নাগরিকদের পরিবারগুলোর স্বজন হারানোর বেদনা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে মার্কিন সংসদের প্রাক্তন স্পীকার ‘নিউট গ্যাংগ্রজি’ও তীব্র ভাষায় নিউ ইয়র্কে মসজিদ নির্মাণের ব্যাপারে গৃহীত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, নিউ ইয়র্কে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমর্থন করার পর অনতিবিলম্বে এ খবরটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও বহিঃর্বিশ্বে একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ খবরে পরিণত হয়।#