৩ মার্চ ২০১১ - ২০:৩০

পাকিস্তানের পারাচেনার হতে পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শিয়াদের উপর একটি দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণের ১৮ জন আহত হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: পারাচেনা অঞ্চলের শিয়াদের উপর আরোপিত অবরোধ –যা চার বছর যাবত অব্যাহত ছিল- ভাঙ্গার পর ও গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে সন্ধি প্রতিষ্ঠার পর এ শহরের অসহায় মানুষগুলোর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য অন্য শহরের যাওয়ার রাস্তা খুলে যায়।

কিন্তু গত বুধবার (২রা ফেব্রুয়ারী) সন্ত্রাসীরা পারাচেনার হতে পেশোয়ারের উদ্দেশ্য রওনা হওয়া যাত্রীদের পথে একটি দূর নিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়, যাতে ১৯ জন শিয়া আহত হয়েছে।

‘মামুখুর’ অঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণে আহতদের মাঝে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুও রয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

স্থানীয় শিয়ারা আহতদেরকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর উক্ত সড়ক অবরোধ করে।

উল্লেখ্য, উক্ত চুক্তি পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ৬টি সুন্নি গোত্র এবং শিয়াদের মাঝে স্বাক্ষরিত হয় এবং পাকিস্তানের তালেবনারও এ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা করেছিল যে, এ চুক্তি সকলের দৃষ্টিতে সম্মানিত। যদি সুন্নিরা এ চুক্তি ভঙ্গ করে তবে হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর শরিয়তের ভিত্তিতে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে।

এ হামলার পর শিয়ারা, মধ্যস্থতাকারী শোরার নিকট অনতি বিলম্বে উক্ত হামলার সাথে জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছে।

পাকিস্তান সরকার এ অঞ্চলের নির্যাতিত লোকদেরকে এখনো নিরাপত্তা দিতে পারে নি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মধ্যস্থতাকারী শোরা এবং তালেবান এ হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যা তাদের এ চুক্তি মান্য করার অন্যতম প্রমাণ স্বরূপ।

বার্তা সংস্থা আবনা গত মাসে ঐ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ঘোষণা করেছিল যে, সম্ভবত পাকিস্তান সরকারের কাছাকাছি দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী তালেবান বাহিনী’র সাথে অন্যান্য তালেবানদের মতের মিল নাও থাকতে পারে। অথবা ন্যাটো ও আমেরিকার সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দল এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা পূনরায় বিনষ্ট করতে শিয়াদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। আর আমাদের এ উদ্বিগ্নতা বর্তমানে বাস্তবরূপ লাভ করেছে এবং এত কঠোরভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এ অঞ্চলের শিয়ারা হামলার পূনরায় সহিংস এ হামলার শিকার হয়েছে।#