২১ মার্চ ২০১১ - ২০:৩০

কুয়েতের তাকফিরী গোষ্ঠী আয়াতুল্লাহ সিস্তানী ও শিয়া মাযহাবের অন্যান্য মারজায়ে তাকলীদগণের প্রতি অবমাননা করে তাদেরকে খাখাম (ইহুদী ধর্মযাজক) বলে আখ্যায়িত করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ‘তাজাম্মো সাওয়াবাতুল উম্মাহ’; নামক একটি সালাফী ও তাকফিরী (অন্যদেরকে যারা কাফের বলে জ্ঞান করে) সংগঠন কুয়েতের ‘তাগইর’ স্কয়ারে সমবেত হয়ে শিয়া মাযহাব ও এর ওলামাগণের প্রতি অবমাননা করেছে।

মাত্র ২০০ জনের এ সমাবেশে সৌদি সৈন্যদের বাহরাইন আক্রমনকে ‘বাহরাইনকে রাফেজী ও মাজুসী (অগ্নি উপাসকদের) হতে মুক্তি দান’ বলে আখ্যায়িত করা হয়!

এ সমাবেশে হায়েফ আল মুতাইরী ও ওয়ালিদ আল তাবাতাবায়ী নামক কুয়েতি সংসদের ২ জন উগ্র সদস্য উপস্থিত ছিল। তারা এ সমাবেশে বাহরাইনে সৈন্য প্রেরণের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশের নিন্দা জানায়।

জাতীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত এ সমাবেশে শিয়া মাযহাবের মারজায়ে তাকলীদগণের –বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আল উজমা সিস্তানী’র- প্রতি অবমাননা করা হয়। সমাবেতরা তাদেরকে শীর্ষস্থানীয় খাখাম  এবং বাহরাইনী জাতিকে ‘মাজুস’ (অগ্নি উপাসক) ও ‘রাফেজী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। তারা এ সময় কুয়েতের জাতীয় শিয়া ব্যক্তিত্বকেও ইসরাইলের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে!!

তাকফিরীদের এহেন অবমাননাকরা সমাবেশে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে কুয়েতি পার্লামেন্টের সদস্য ও শিয়া এবং সুন্নি আইনজীবীরা।

কুয়েতের সংসদ সদস্য ‘ফায়সাল দুওয়াইসান’ এ ফাসাদ সৃষ্টিকারী পদক্ষেপের বিরোধিতায় বলেছেন: তোমাদের তাকফিরী ওলামারাই হচ্ছে ‘খাখাম’, যারা জায়নবাদী ইসরাইলের স্বার্থে ফতওয়া দিয়ে থাকে।

কুয়েতের অপর এক সাংসদ ‘সালেহ আশুর’ এ সমাবেশ আয়োজনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন: ‘তারা ইসরাইলের এজেন্ট হচ্ছে যারা তোমাদেরকে এ সব কাজের প্রশিক্ষণ দেয়। তারাই হচ্ছে ইসরাইলী এজেন্ট যারা বুশের সাথে বসে মদ পান করে’।

কুয়েতি পার্লামেন্টের শিয়া সদস্য সাইয়্যেদ হুসাইন কাল্লাফ বলেন: যে সকল তাকফিরীরা আমাদের (শিয়া) আলেম-ওলামাদের প্রতি আঙ্গুল তুলেছে তাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি যে, আমরা এ ধরণের আচরণকে সহজেই ছেড়ে দেব না।

কুয়েতি সংসদের সুন্নি সদস্য, ‘যারা কুয়েতকে একটি স্বাধিন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না এবং যারা চায় সৌদি আরবের সাথে সংযুক্ত হতে, তাদের উচিত সেই সৌদি আরবে ফিরে যাওয়া, যেখান হতে তারা এসেছে’ –এ কথা উল্লেখ করে বলেন: আমরা পার্লামেন্টের সুন্নি সদস্যরা ‘হায়েফ আল মুতাইর’ ও ‘ওয়ালিদ আল তাবাতাবায়ী’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেব এবং শিয়া ও সুন্নি ব্যক্তিত্বদেরকে কাফের আখ্যায়িত করার প্রতিবাদ জানাব’।

বলাবাহুল্য, হায়েফ আল মুতাইরী ও ওয়ালিদ আল তাবাতাবায়ী এবং কুয়েতের উগ্রবাদীরা বারংবার শিয়া ব্যক্তিত্ব ও আলেমদের প্রতি অবমাননা করেছে। তারা তাদের সর্বশেষ পদক্ষেপে, বাহরাইনে সৈন্য প্রেরণে বিরোধিতা করার জন্য কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে এ বিরোধিতার জবাব চেয়েছে। তারা এ সময় দাবী করেছে যে, বাহরাইনী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরবের সাথে সংযুক্ত হওয়া ছাড়া কুয়েতের সম্মুখে আর কোন উপায় নেই।#