১৪ এপ্রিল ২০১১ - ১৯:৩০

বর্ণবাদী হামলাকারীরা ঐ ইরানি ছাত্রীর হিজাব খুলে ফেলতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তারা ঐ ছাত্রীর হিজাব খুলতে না পেরে লন্ডনের মূল সড়কে জনচক্ষুর সম্মুখে তাকে বেদম প্রহার করে ঐ ছাত্রীকে গুরুতর আহত করার পর উক্ত স্থান ত্যাগ করে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: লন্ডনে অধ্যায়নরত এবং লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি ছাত্র পরিষদের সদস্য ও ইরানি নাগরিক ‘যাহরা কাযেমী সালেহ’ গত ১৩ই এপ্রিল (বুধবার) প্রতিদিনের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় তিনি ৪ জন ব্রিটিশ যুবতি তার পথরোধ করে তার হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় ঐ ইরানী ছাত্রী কর্তৃক বাধার সম্মুখীন হয়ে হামলাকারী ঐ চার ব্রিটিশ যুবতি তাকে বেদম প্রহার করে।

এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হামলাকারীরা প্রথম উক্ত ইরানি ছাত্রীর হিজাব খুলে ফেলতে চাইলে তিনি বাধা দেন, এ সময় তারা লন্ডনের প্রধান সড়কে জনচক্ষুর সম্মুখে ঐ ইরানি ছাত্রীকে বেদম প্রহার করে এবং তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে উক্ত স্থান ত্যাগ করে।

গত পরশু রাত ৭:৩০ মিনিটে বৃটেনের রাজধানীর লন্ডন রোড স্ট্রীটে ঐ মুসলিম ছাত্রী হামলার ব্রিটিশ যুবতিদের কর্তৃক হামলার শিকার হওয়ার পর পুলিশের এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যায় নি।

এদিকে লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় ইসলাম ছাত্র পরিষদ উক্ত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসলাম বিরোধী দলসমূহকে সহযোগিতা এবং এ ধরণের পদক্ষেপ প্রসারের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হিজাব বিরোধী সক্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ভিত্তিতে ফ্রান্স সরকার কয়েকদিন পূর্বে এদেশে পাশকৃত নেকাব বিরোধী আইন চালু করেছে। উক্ত আইনের ভিত্তিতে যারাই গণস্থানসমূহে নেকাব পরিধান করে উপস্থিত হবে তাদেরকে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে। বেলজিয়ামেও একই ধরণের আইন চালু করা হয়েছে। হিজাব ও নেকাব বিরোধী আইন শুধুমাত্র ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে সীমাবদ্ধ নয় বরং ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এ ধরণের বণ্যবাদী ও বৈষম্যমূলক আচরণ ব্যাপক হারে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বলাবাহুল্য, বৃটেনের মোট ৬০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৩ মিলিয়ন লোক হচ্ছে মুসলমান। আর এদেশের জনগণের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি এ দেশের কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আর তাই তারা এর মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।#