২৪ এপ্রিল ২০১১ - ১৯:৩০

সন্ত্রাসীদের কর্তৃক অপহৃত ৮ জন শিয়ার অগ্নিদগ্ধ, হাত-পা কাটা ও মাথা বিহীন লাশ গত শুক্রবার পারাচেনারে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: গত শুক্রবার (২২শে এপ্রিল) পাকিস্তানী সরকারী বাহিনী’র সদস্যরা অপহৃত ৮ জন শিয়ার অগ্নিদগ্ধ, মাথাবিহীন ও হাত-পা কাটা লাশ তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে।

উগ্র সন্ত্রাসীরা অপহৃত এ সব ব্যক্তিদের হাত পা কেটে তাদের শরীর হতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। অতঃপর তাদের হাত-পা ও মস্তক বিহীন লাশ অগ্নিদগ্ধ করে।

এর একদিন পর অর্থাৎ গত শনিবারও (২৩শে এপ্রিল) পারাচেনারের এক শিয়া ট্রাক চালক ও তার হেলপার ‘মুহমান্দ এজেন্সি’ অঞ্চলে শাহাদত বরণ করেছে। তারা আফগানিস্তান হতে পাকিস্তানে মালামাল স্থানান্তরের সময় উক্ত অঞ্চলে উগ্র ওয়াহাবীদের হামলার শিকার হয়ে শাহাদত বরণ করে। তাদের ট্রাককেও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

বলাবাহুল্য, শহীদ হওয়া ঐ ৮ জন শিয়া, গত ২৫শে মার্চ (২০১১ সাল) কুরুম এজেন্সির দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত বেগান অঞ্চল হতে অপহৃত ৪০ জন শিয়ার অন্যতম। তাদেরকে অপহরণের দিনও ৩ জন যাত্রী সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদত বরণ করেছিল।

সরকারী সৈন্যরা দাবী করছে যে, তারা অপহরণকারী সন্ত্রাসীদের আস্তানা সম্পর্কে কোন তথ্য রাখে না, কিন্তু তারাই শহীদদের লাশগুলোকে সন্ত্রাসীদের নিকট হতে গ্রহণ করেছে। এ ঘটনা হতে স্পষ্ট হয় যে, অপহরণকারী ও খুনি ওয়াহাবীদের সাথে পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগ রয়েছে।

পারাচেনার হতে প্রেরিত আবনার রিপোর্টারের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, শিয়া বিরোধী এ অভিযান কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও তালেবান নেতা জালাল উদ্দীন হাক্কানী’র নেতৃত্বে (কথিত) ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী তালেবান (!) জঙ্গীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকারী ও সামরিক কর্মকর্তারা দাবী করছে যে, তাদের সাথে সন্ত্রাসীদের কোন যোগাযোগ নেই। কিন্তু সত্য বিষয়টি হচ্ছে, সরকারের সকল সিদ্ধান্তেই সন্ত্রাসীদের প্রভাব রয়েছে। তারা সহজেই নিজেদের দাবীকে সরকারের উপর চাপিয়ে দিতে পারে এবং সরকারের পক্ষ হতে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণাকে অমান্য করে সরকার কর্তৃক খুলে দেয়া রাস্তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

পারাচেনারের বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে পারাচেনারের সকল রাস্তাই বন্ধ রয়েছে এবং পারাচেনার হতে পেশোয়ারের মহাসড়কটিও বর্তমানে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেক পয়েন্ট বসিয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল শুধুমাত্র সরকারী বাহিনী’র গাড়ীগুলোকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। আর এ বিষয়টি হতেই স্পষ্ট হয় যে, সন্ত্রাসীদের সাথে পাকিস্তান সরকারের যোগসাজস রয়েছে।

এ অঞ্চলের জনগণ বর্তমানে পুরোপুরি অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবন যাপন করছে। কেননা আফগানিস্তান সরকার আফগানিস্তান সীমান্তকেও বন্ধ করে দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে এ অঞ্চলের জনগণকে নিজেদের এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

৮ জন শহীদের লাশ তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের পর পারাচেনার শহরে সাধারণ শোক ঘোষিত হয়েছে। বর্তমানে এ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যে কোন মুহূর্তে পূনরায় ব্যাপক আকারে সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা এ অঞ্চলের জনগণ সরকারের মধ্যস্থতার প্রতি আর আস্থা পোষণ করছে না। কারণ সরকার বারংবার এ অঞ্চলের লোকজনকে ধোঁকা দিয়েছে। অপরদিকে তালেবান জঙ্গিরা –যারা অবরুদ্ধ শিয়াদের নিকট হতে সর্বক্ষেত্রেই পরাভূত হয়েছে- কাপুরুষোচিতভাবে নিরস্ত্র ও অসহায় যাত্রীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। সুতরাং জনগণ উক্ত রুট উন্মুক্ত ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে নিজেরাই কোন পদক্ষেপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পারাচেনারের অবরোধ তুলে নেয়ার পর এ অঞ্চলের জনগণ ৪০ দিন পর্যন্ত পেশোয়ারে যাতায়াত করতে পেরেছিল। কিন্তু এর মধ্যে তারা ৪ বার সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়।#