আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ফ্রান্সে নেকাব পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর হতে প্রায় ৫০ জন নেকাব পরিহিতা নারী বিভিন্ন গণস্থানে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছে। তাদেরকে এ সময় জরিমানা বা বিশেষ ক্লাসে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
মারিয়াম হলেন একজন ফরাসী নারী, যাকে একটি সড়কে নেকাব পরার অপরাধে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তিনি ফ্রান্সের আর টি এল রেডিও কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন: তিনি কার ড্রাইভ করার সময় নেকাব পরেছিলেন। এ সময় পুলিশ তার পথরোধ করে তাকে ১৫০ ইউরো জরিমানা অথবা এ বিষয়ক বিশেষ ক্লাসে অংশগ্রহণ –এ দু’টির মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে নেয়ার প্রস্তাব দেয়।
মারিয়াম এ দু’টির মধ্য হতে জরিমানা প্রদানকে বেছে নেন। কেননা তিনি চাইতেন না নেকাব ছাড়া জনসাধারণের মাঝে উপস্থিত হতে।
তিনি বলেন: বর্তমানে পূর্বের তুলনায় ব্যাপকহারে শত্রুতাপূর্ণ ব্যবহারের সম্মুখীন হচ্ছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লোদ গিয়ান্ট সম্প্রতি রেডিও ফ্রান্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নেকাব পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনটি ভিত্তিহীন আখ্যায়িত এ ব্যাপারে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেন: জনগণের মতে এ আইনটি বাস্তবায়ন যোগ্য নয়, কিন্তু এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় নি।
পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া নেকাব পরিহিতাদের মধ্যে মার্কিন এক মুসলিম নারীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যিনি প্যারিসের শহরের বাইরে অবস্থিত ‘চার্লজ ডোগ্ল’ বিমানবন্দর হতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক আইন চালু করার পূর্বে ফ্রান্স সরকার ধারণা করেছিল যে, এদেশে মোট ২ হাজার নেকাব পরিহিতা মুসলমান রয়েছে। কিন্তু সরকার দাবী করেছে, এ আইনটি এ দিক থেকে গুরুত্ববহ, সরকার এর মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চায় যে, মুসলমানরা সরকারের নির্দেশ মান্য করে কিনা।
ফ্রান্সের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বেলজিয়ামও গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে সাধারণ সংসদের রায় লাভের পর নেকাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে নেকাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখনো বিতর্কিত। এ দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের মাঝে –যারা ফ্রান্সে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের মাঝে সবচেয়ে বড় জাতি হিসেবে বিবেচিত- এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।#