২৬ জুন ২০১১ - ১৯:৩০

মিসরের গ্রান্ড মুফতি শবে বরাতে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করাকে জায়েজ (বৈধ) আখ্যায়িত করে ফতওয়া প্রদান করে ঘোষণা করেছেন: ১৫ই শাবান (শবে বরাতের) মিলাদ-মাহফিল আয়োজনের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এ মিলাদ-মাহফিলকে ধর্ম ভিত্তিক পালন করতে হবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: মিসরের দৈনিক ‘আল-দস্তুরে’র বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, মিসরের গ্রান্ড মুফতি ‘আলী জুমআ’ এক ফতওয়ার মাধ্যমে ১৫ই শাবানের (আরবী বছরের ৮ম মাস) মিলাদ-মাহফিল আয়োজনের বৈধতার কথা ঘোষণা করেছেন।

তিনি তার এ ফতওয়া’তে উল্লেখ করেছেন যে, শবে বরাতে মিলাদ-মাহফিলের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এ মাহফিলকে ধর্ম ভিত্তিক পালন করতে হবে। আর এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

মিসরের গ্রান্ড মুফতি আরো বলেন: আল্লাহর রাসূল (স.) হতে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে যে, ‘যখন ১৫ শাবানের আগমন ঘটে, তখন তোমরা উঠে পড় এবং এ দিনটি রোজা রাখো, (কেননা) মহান আল্লাহ্ সূর্যাস্তের সময় (একজন ফেরেস্তাকে) প্রেরণ করেন এ পৃথিবী’র আসমানে এবং বলেন: যে ব্যক্তি তওবা করে তার তওবা আমি গ্রহণ করে নিলাম, যে ব্যক্তি রিযিক চায় তাকে আমি রিযিক দিলাম, যে ব্যক্তি কোন সমস্যায় জর্জরিত থাকে তাকে তা হতে মুক্ত করে দিলাম...’।

তিনি উক্ত ফতওয়ায় শবে বরাতের মিলাদ-মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে মতদ্বৈতার প্রতি ইশার করে বলেন: কেউ কেউ এ অনুষ্ঠান মসজিদে পালন করাকে মুস্তাহাব বলে আখ্যায়িত করে বলেন: ‘এ মাহফিলে সর্বোত্তম পোশাক পরা ও কুরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব’, অপর একটি দল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজনকে মাকরুহ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরো বলেন: শরিয়তে যে সকল বিষয় সম্পর্কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এ দিবসের মাহফিলসমূহে সেগুলোকে পরিহার করতে হবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন:

«وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ».

মিসরের গ্রান্ড মুফতি কবর যিয়ারত শিরক ও কুফর নয় এ কথার প্রতি ইশারা করে ইতিপূর্বে বলেছিলেন: মহানবী (স.) এর বংশধরদের কবর যিয়ারত অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এর গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

উল্লেখ্য, উগ্র ওয়াহাবী গোষ্ঠী কবর যিয়ারত করাকে হারাম জ্ঞান করা ছাড়াও ইসলামি বিভিন্ন উপলক্ষে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করাকেও হারাম বলে বিশ্বাস করে।#