আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রাজাব তায়েব এর্দোগান বলেছেন : ইসরাইল বলে যে, ফিলিস্তিনীরা তাদের উপর বোমা নিক্ষেপ করে এবং এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলী নিহত হয়েছে। আমি তাদের (নিহত ইসরাইলীদের) সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আমি জানতে চাই যে, ফিলিস্তিনীদের ছোঁড়া বোমা ও রকেটে কতজন ইসরাইলী নিহত হয়েছে, ১৯ নাকি ২০ জন? ১০০ নাকি ২০০ জন? কতজন? অনুগ্রহ পূর্বক প্রমাণ সহকারে এটা স্পষ্ট করুন যাতে আমরাও জানতে পারি।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন : কিন্তু অপরদিকে আমরা জানি যে, লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনী প্রাণ হারিয়েছেন এবং গাজা উপত্যকায় হামলায় হাজার হাজার ব্যক্তি নিহত হয়েছে এবং তাদের সংখ্যা স্পষ্ট (সকলেই নিহতদের সংখ্যা সম্পর্কে অবগত)।
তিনি বলেন : ইসরাইলী সর্বদা তাদের এ সকল পদক্ষেপের ওজুহাত হিসেবে ইহুদীদের উপর চালানো গণহত্যার (হলোকাস্টের ঘটনা) প্রতি ইশারা করে থাকে। কিন্তু তারা যেরূপ তাদের সাথে ঘটেছে সেরূপেই অন্যের সাথে আচরণ করে।
তিনি আরো বলেন : জার্মানরা এখনো ইহুদীদেরকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। কিন্তু তুরস্ক বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোন দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন সহিংস আচরণ করেনি। ইসরাইল এ ব্যাপারে বেশ হিংস্র এবং এ বিষয়ে তাদের কোন দয়া-মায়া নেই।
তিনি ইসরাইলের এ ধরণের পদক্ষেপে বৈধতার পক্ষে কোন ওজুহাত নেই –এ কথা উল্লেখ করে জায়নবাদী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন : যদি আপনার স্বাভাবিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চান তবে সন্ধী প্রতিষ্ঠা এবং বিশৃংখলা ও টানাপোড়ন বন্ধের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তেলআবিব-আনকারা’র সম্পর্কের প্রতি ইশারা করে বলেন : এ সম্পর্কের অবনিত হওয়ার পেছনে একটি মাত্র কারণ রয়েছে, আর তা হচ্ছে গাজা অভিমূখী ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলের হামলা। আমরা ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছি, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আর ইসরাইল এ পদক্ষেপের মাধ্যমে –যা টানাপোড়নকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে- দিনের পর দিন কোনঠাসা হচ্ছে।
রাজাব তায়েব এর্দোগান গাজাবাসীদের জন্য প্রেরিত ত্রাণবাহী জাহাজকে স্কোর্ট করার ব্যাপারে বলেন : এ পদক্ষেপ গাজা অভিমূখে বা মিশর অভিমূখে যাওয়ার পথে গ্রহণ করা হবে। কেননা ইসরাইলকে বিশ্বাস করা যায় না।
এর্দোগান সিরিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতি ইশারা করে দাবী করেছেন যে, সিরীয়রা অবশেষে বাশার আসাদ সরকারের পতন ঘটাবে।
তিনি বলেন : গণতন্ত্র বর্তমানে স্বৈরতন্ত্রের উপরে স্থান লাভ করেছে এবং একের পর এক স্বৈরাচারী সরকারগুলোর পতন ঘটছে। বিশ্বের সকল স্থান হতে স্বৈরাচারী সরকারগুলোর পতন ঘটবে।
তিনি বাশার আসাদের উদ্দেশ্যে বলেন : তুমি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বদার জন্য ক্ষমতায় থাকতে পারবে না এবং তোমার জাতির ইচ্ছাকে ধ্বংস করে দিতে পারবে না। মিশর ও লিবিয়ার জনগণের মত সিরিয়ার জনগণও স্বাধীনতা চায়।
শেষ তিনি জনগণের অধিকার ও নাগরিকদের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহবান জানান।#