৩ অক্টোবর ২০১১ - ২০:৩০

আরবীয় এক কর্মকর্তা ঘোষণা করেছে যে, বাশার আল-আসাদ সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক সাক্ষাতে, তুরস্কের এ মন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের বার্তা বাহক বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন : সিরিয়াতে প্রথম ক্ষেপনাস্ত্র আঘাত হানার পর প্রথম ৩ ঘন্টা ইসরাইলের উপর অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে এবং দ্বিতীয় ৩ ঘন্টায় মধ্যপ্রাচে আগুন লেগে যাবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : আরবীয় এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা দাবী করেছে যে, তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আহমাদ দাউদ উগলু’র সাক্ষাতের বেশ কিছু গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন, যে বৈঠক দুই মাস পূর্বে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অনুষ্ঠিত হয়।

ইরাকের আল-নাখিল বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, ঐ আরবীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন : বাশার আসাদ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঐ কথাগুলো বলে তুরস্ক হতে আসা ঐ প্রতিনিধি দলকে অবাক করে দেন। কেননা সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যে সকল বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে সেগুলোর মধ্য হতে কিছু বাণী নিয়ে উগলু সিরিয়া সফরে এসেছিলেন। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল এ বাণী পৌঁছানো যে, যা কিছু লিবিয়ায় ঘটেছে এবং ন্যাটো বাহিনী’র হামলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, একই ঘটনা সিরিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটতে যাচ্ছে।

ছোট ছোট সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের তত্পরতার কারণে সিরিয়ার কিছু কিছু শহর নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। তুরস্ক, সিরিয়া বিরোধী পশ্চিমা দেশসমূহের নীতির পথ অনুসরণ করে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী কর্তৃক এদেশের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবেলাকে জনগণের উপর দমনমূলক আচরণ বলে প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে এ বাহানায় সিরিয়া সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে সিরিয়া পশ্চিমা দেশসমূহের দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয়।

এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, বাশার আসাদ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় উগলুকে বলেন : একজন কূটনৈতিক হিসেবে আপনার দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহ –সিরিয়ার সাথে যাদের শত্রুতার বিষয়টি স্পষ্ট- কেননা লিবিয়ার সাথে যেরূপ আচরণ করেছে সিরিয়ার সাথে সেরূপ আচরণ করছে না, দাউদ উগলু তার কোন উত্তর না দিয়ে বলেন যে, ‘এমন কোন তথ্য বা বিষয় আছে কি যে, তুরস্কের জনগণের বার্তা বাহক হিসেবে তা সম্পর্কে আমি অজ্ঞাত?’ আসাদ বলেন : বৃহৎ শক্তিগুলো খুব ভাল করেই জানে যে, যে কোন কারণে প্রথম ক্ষেপনাস্ত্র দামেস্কে আঘাত হানার ৬ ঘন্টার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লেগে যাবে। আর এ আগুন পারস্য উপসাগরের তৈল উত্তোলন কেন্দ্রসমূহ হতে শুরু হবে। আমি বিশ্বের পানি পথের যোগাযোগের ছোট রাস্তা বন্ধ করে দিতে পারি… ধারণা করবেন না যে, আমি বাড়িয়ে বলছি। আপনার দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর এবং অন্যান্য দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এটা জানে যে, যা কিছু আমি বলছি সে কাজ আমি করবো, নাকি শুধুমাত্র মুখে মুখে বলছি।

আল-নাখিল আরো জানিয়েছে : এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হতবাক হয়ে যান এবং তার চেহারা হতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তিনি এমন প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্ষায় ছিলেন না। তিনি (আসাদ) বলেন : যুক্তরাষ্ট্র ভাল করেই জানে যে, কিভাবে সাদ্দামকে ধ্বংস করার জন্য আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করেছি, কেননা আমরা তাকে চাইতাম না। মার্কিন সরকার এটা ভাল করেই জানে যে, ইরাকে তাদের ফেঁসে যাওয়ার কারণও হচ্ছে সিরিয়া। আমরা ইরাকে মার্কিনীদের সাথে শুধুমাত্র খেলা করি। যদি চাই তাদের বাহিনী’র হাজার হাজার সৈন্যকে হত্যা করতে তবে তা আমরা করতে পারি, আর এক্ষেত্রে আমারা কোন দ্বিধা করবো না। কিন্তু পূর্ব হতে সিরিয়ার নীতি হল দেশের সকল সক্ষমতাকে প্রকাশ না করা।

উক্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, এ সময় দাউদ উগলু দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি চায়। কেননা সে আসাদের কথা বুঝতে পারেনি। কিন্তু তিনি আসাদকে জিজ্ঞেস করেন : ‘আনকারার উদ্দেশ্যে কোন বাণী কি আপনি পৌঁছাতে চান?’ আসাদ উত্তরে বলেন : যে বার্তা আমার জন্য এনেছিলেন তা আনকারা’র বার্তা ছিল না, বরং তা ছিল বিভিন্ন দেশের বার্তা। আমার এ বার্তাকে হুবহু (আনকারাতে) স্থানান্তরিত করুন।

এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরো জানা গেছে যে, দাউদ উগলু চুপ হয়ে যাওয়ার পর আসাদ বলেন : যদি পাগলামী করে কোন পদক্ষেপ দামেস্কের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হয়, তবে ৬ ঘন্টার বেশী সময় আমার প্রয়োজন হবে না; শত শত ক্ষেপনাস্ত্র আমি তেলআবিবের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করবো। একই সময় হিজবুল্লাহ’র নিকটও চাইব যাতে তারা ইসরাইলের উপর অগ্নিবর্ষন করে, যা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ আগে থেকে কিছুই জানবে না।

আসাদ বলেন : এ সকল ঘটনাই প্রথম ৩ ঘন্টায় ঘটবে। কিন্তু দ্বিতীয় ৩ ঘন্টায় ইরান পারস্য উপসাগরে নোঙর করা মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের স্বার্থসমূহকেও টার্গেট করা হবে।

আল-নাখিল জানিয়েছে যে, আসাদের এহেন বক্তব্যের পর দাউদ উগলু আর কোন কথা বলেনি। তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিকট হতে বিদায় নিয়ে এ বার্তাকে আনকারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুলের নিকট পৌঁছান। তার একদিন পর তিনি সৌদি আরব সফরে যান এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের বার্তাকে সৌদি কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছান। অপরদিকে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এ বার্তাকে ওয়াশিংটনে স্থানান্তরিত করে।#