আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : যারা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন তারা ভালভাবেই জানেন যে, এক সময় রিয়াদ-দামেস্কের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঠাণ্ডা ও কঠিন এ বরফ গলে গেল এবং উভয় পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি হল। যে বিষয়ে অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ আশ্চার্য হয়েছিলেন।
*রাফিক হারিরী হত্যার ৩ বছর পর এমাদ মুগনিয়াহকে হত্যা করা হয়
২০০৮ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী, অন্য ভাষায়, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হত্যার ৩ বছর পর হিজবুল্লাহ বাহিনী’র অন্যতম কমান্ডার ‘এমাদ মুগনিয়াহ’কে হত্যা করা হয়। যাতে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। এ ঘটনা এমতাবস্থায় ঘটানো হয়েছিল যখন বিশ্লেষকগণ মনে করতেন যে, নিঃসন্দেহে এ ঘটনা দামেস্ক ও হিজবুল্লাহ’র মধ্যকার সম্পর্কে অবনতি ঘটাবে।
*তদন্তের পর যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছিল
মুগনিয়াহ হত্যার কয়েকদিন পর আরব পত্র-পত্রিকাসমূহ ঘোষণা করেছিল যে, মুগনিয়াহ হত্যার তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যে গুলো ফাঁশ হলে একেকটি খবর মধ্যপ্রাচ্যকে প্রকম্পিত করবে। উক্ত তদন্তের ভিত্তিতে প্রকাশ পেয়েছে যে, এ অঞ্চলের বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। যখন সকলে উক্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল তখন হঠাৎ করে সেগুলোর সম্পর্কে আর কোন কিছু জানা গেল না।
*সিরিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের যোগাযোগ
প্রকৃত বিষয়টি হল যে, সিরিয়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ বিষয়টি ঘোষণার পর, পশ্চিমা দেশসমূহ কূটনৈতিকদের দ্বারা বিভিন্ন তত্পরতা শুরু করে, যাতে দামেস্ককে রাজী করাতে পারে যে, শহীদ মুগনিয়াহ’র হত্যার তদন্তের ফলাফল যেন প্রকাশ না করে। বিপরীতে হোয়াইট হাউজ এবং এর সাথে চুক্তিবদ্ধ পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ রফিক হারিরী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিরিয়ার উপর আরোপিত চাপ প্রয়োগ শিথিল করবে। দামেস্ক তার প্রতিপক্ষের সাথে এখনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যে, আমেরিকা সিরিয়ার উপর আরোপ করা অভিযোগ তুলে নেয়, এমনভাবে যে, যেন প্রথম থেকেই সিরিয়ার উপর এমন ধরণের কোন অভিযোগই আরোপ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউজ বুঝতে পেরেছিল যে, সিরিয়া কর্তৃক উক্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে শুধুমাত্র হিজবুল্লাহকেই ক্রোধান্বিত করবে না, বরং এর ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হিজবুল্লাহ বাহিনী’র নেতারা উদ্বুদ্ধ হবে এবং সিরিয়া সরকারের জন্য বিরাট এক বিজয় অর্জিত হবে।
* বান্দার বিন সুলতান বিমানবন্দরে অপরিচিত পরিচয়ে গ্রেপ্তার
পশ্চিমা বিশ্ব এ বিপর্যয় হতে বের হওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল, এ সময় আরো একটি ঘটনা ঘটে এবং এ ঘটনায় হোয়াইট হাউজ ও রিয়াদ প্রকৃত অর্থে কোনঠাসা হয়ে যায়। সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ও ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বান্দার বিন সুলতান দামেস্ক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীদের কর্তৃক গ্রেপ্তার হন।
*বিমানবন্দরে কি ঘটেছিল?
সত্য ঘটনা হচ্ছে যে, যখন পশ্চিমা বিশ্ব দামেস্ককে এমাদ মুগনিয়াহ হত্যার তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না করার জন্য বোঝানোর কাজে ব্যস্ত ছিল তখন দামেস্ক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকজনের উদয় হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যদের দৃষ্টি তাদের উপর পড়ার পর তাদের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বিমানবন্দর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিমানবন্দরের ঐ কর্মকর্তা ঘটনাক্রমে বুঝতে পারেন যে, জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন ঐ লোকটি বান্দার বিন সুলতান ব্যতীত আর কেউ নন। যিনি অপরিচিত অবস্থায় বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছেন। ঐ অবস্থায় তার চেহারায় উদ্বিগ্নতার ছাপ প্রতীয়মান ছিল।
প্রিন্স ও তার সাথীদের নিকট বিদ্যমান সকল ডক্যুমেন্ট পরীক্ষা করার পর স্পষ্ট হয় যে, তাদের নিকট বিদ্যমান সকল ডক্যুমেন্টসই জাল। এরই ভিত্তিতে দ্রুততার সাথে তাদের সকলের গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারী করা হয় এবং সিরিয়ার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করা হয়।
*বাধ্য হয়ে দামেস্কে অবস্থান
গ্রেপ্তারের পর বান্দার বিন সুলতান সিরিয়ায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। এদিকে সিরিয়া সরকার উক্ত ঘটনা সম্পর্কে পত্র-পত্রিকাকে না জানিয়ে রিয়াদে যোগাযোগ পূর্বক এ বিষয় সম্পর্কে সৌদ কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে রিয়াদ প্রথম বারের মত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। এ অবস্থায় সোদি আরবের জানা ছিল না যে, এ বিষয়টিকে কিভাবে সমাধান করা সম্ভব। এদিকে উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল খারাপ।
* সৌদি প্রিন্স কর্তৃক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
প্রিন্স ও তার সাথীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উক্ত জিজ্ঞাসাবাদে নতুন নতুন ঘটনা বেরিয়ে আসতে থাকে, যেগুলো সম্পর্কে প্রচার মাধ্যম অবগত হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় দেখা দিত। বান্দার বিন সুলতানের স্বীকারোক্তি রেকর্ড হতে থাকে, যাতে পরবর্তীতে তিনি তা অস্বীকার করতে না পারেন। বান্দারে’র স্বীকারোক্তিতে লেবানন, আন্তর্জাতিক আদালত ও রাফিক হারিরী হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আবরের ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হতে থাকে।
*কঠিন পরিস্থিতির মুখে সৌদি আরব
সাউদ আল-ফায়সাল সিরিয়ার সাথে সংলাপের জন্য গোপনে দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং বাশার আসাদের সাথে সাক্ষাত করেন। এ সাক্ষাতে উক্ত ঘটনা অব্যক্ত রাখার ব্যাপারে বাশারের প্রতি সাউদ আল-ফায়সাল আবেদন জানান। যদিও তিনি জানতেন যে, উক্ত স্বীকারোক্তির প্রত্যেকটির তথ্য প্রচার মাধ্যমের সম্মুখে ফাঁশ করে দেয়া হবে রিয়াদের মুখে কঠিন এক চপেটাঘাত স্বরূপ।
*স