৫ জানুয়ারি ২০১২ - ২০:৩০

অপারেশন ফুরাতের নেতৃত্ব দানকারী ‘উসমান আল গানেমী’ কারবালা, নাজাফ ও বাবুল প্রদেশে ৭০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্য অবস্থান নেয়ার তথ্য দিলেও এখনও ইমাম হুসাইন (আ.) চল্লিশায় সমবেত যায়েরদের উপর হামলার আশংকা রয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের নাসিরিয়াহ শহরে বোমা বিস্ফোরণে ১০৮ জন যায়ের (যেয়ারতকারী) হতাহত হয়েছে। ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশা পালন করতে পায়ে হেটে আসা যায়েরদের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়।

এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ই জানুয়ারী) ইরাকের দক্ষিনাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়ায় ইমাম হুসাইন (আ.) এর যায়েরদের হাটার সড়কে বোমা বিস্ফোরণে ৩৬ জন শাহাদাত বরণ করেছে এবং অপর ৭২ জন আহত হয়েছে। যদিও ইরাকের পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে, উক্ত হামলায় ৫ জন শহীদ হয়েছে এবং অপর ২০ জন আহত হয়েছে।

ইরাকের পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, বাগদাদের ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত নাসিরিয়া শহরের পশ্চিমে একটি পুলিশ চেক পয়েন্টের নিকট ঐ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এদিকে গতকাল সকালে বাগদাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে দু’টি বিস্ফোরণে ৩৩ জন হতাহত হয়েছে। ইরাক পুলিশ ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকালে বাগদাদের ঐ হামলায় ২১ ব্যক্তি নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছে।

 

সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিলেন ইরাকি কমান্ডার

অপারেশন ফুরাতের প্রধান ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশ পালন করত সমবেত যায়েরদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অপারেশন ফুরাতের কমান্ডার ‘উসমান আল গানেমী’ কারবালা, নাজাফ ও বাবুল প্রদেশে ৭০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্য অবস্থান নেয়ার তথ্য দিলেও এখনও ইমাম হুসাইন (আ.) চল্লিশায় সমবেত যায়েরদের উপর হামলার আশংকা রয়েছে।

জনাব আল গানেমী বলেন : ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশার সময় আমরা শত্রুদের হুমকির সম্মুখীন। এ কারণে যায়েরদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্যদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত অবস্থান গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি বলেন : সন্ত্রাসী দলগুলো বিগত বছরগুলো হতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে হামলা চালানোর জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। অধিক সংখ্যায় বেসামরিক লোক হত্যার কুউদ্দেশ্যে তারা এ সকল হামলা চালায়।

তিনি বলেন : নিরাপত্তা বিষয়ক এ পরিকল্পনা গত ২৬শে ডিসেম্বর হতে বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, নিরাপত্তা বাহিনী’র কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দিক থেকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তিনি আরো বলেন : ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশ পালন করতে কারবালা অভিমূখী যায়েরদের নিরাপত্তা জোরদার করেত কারবালায় ৩০ হাজার, বাবুল প্রদেশের ২৫ হাজার এবং নাজাফে ২২ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিষয়ক এ কর্মকর্তা গত ৪৮ ঘন্টায় (গতপরশু ও গতকাল) ২৫ ব্যক্তিকে কারবালা প্রদেশের বিভিন্ন স্থান হতে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইমাম হুসাইন (আ.) আর চল্লিশার অনুষ্ঠান আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত, যা কারবালার শোকার্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হাজার হাজার যায়ের পায়ে হেটে ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে কারবালায় এসে সমবেত হয়। ইমাম হুসাইন (আ.) এর যায়েররা তাকফিরী (অন্যদেরকে যারা কাফের আখ্যায়িত করে) সন্ত্রাসী দলের হাত থেকে নিরাপদ নয়। তাকফিরী সন্ত্রাসীরা গাড়ীতে বোমা পেতে অথবা হাতে তৈরীর বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে যায়েরদের চলার পথে তাদের উপর নৃশংস হামলা চালায়।

এদিকে বাবুল প্রদেশের প্রাদেশিক পুলিশ, এ প্রদেশের উত্তর অঞ্চল হতে আলকায়েদা সন্ত্রাসী চক্রের ৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে, যাদের মাঝে একজন নারীও রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ঐ সন্ত্রাসীরা ইমাম হুসাইন (আ.) এর চল্লিশার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পায়ে হেটে কারবালা অভিমূখী রওনা হওয়া যায়েরদের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল।#