আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : বাহরাইনের ফ্রিডম মুভমেন্টের প্রধান সাঈদ আল-শাহাবি বাহরাইনের বিপ্লবী জনতাকে দমন করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের সহযোগিতার সংবাদের কথা উল্লেখ করে ঘোষণা করেছেন যে, বিদ্যমান তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, ইসরাইলের সাথে আলে খলিফা’র ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
জনাব সাঈদ আল-শাহাবি বলেন : আলে খলিফা সরকারের কর্মকর্তা ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মাঝে পারস্পারিক সহযোগিতার বিষয়টি নতুন কিছু নয় এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব সাইটে অধিক পরিমাণে এমন কিছু ছবি রয়েছে যা এ দুই স্বৈরশাসকের কর্মকর্তাদের পারস্পারিক সহযোগিতার বিষয়টিকে প্রমাণ করে।
জনাব আল-শাহাবি, বাহরাইনের বাদশাহ’ স্বৈরাচারী হামদ বিন ঈসা আলে খালিফা কর্তৃক এদেশের জনগণকে দমন করার কথা উল্লেখ করে বলেন : ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বাহরাইনি জাতীকে দমন করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে তা সর্বদাই ব্যর্থ এবং পরাজিত হয়েছে।
তিনি বলেন : বাহরাইনের স্বৈরাচারী সরকার ও ইসরাইলের মধ্যকার পারস্পারিক সহযোগিতার বিষয়ে অনেক প্রমান রয়েছে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব সাইট এ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ছবি ও ঘটনাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আল-শাহাবি বলেন : জায়নবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী শিমন প্রেজে’র সাথে বাহরাইনের বাদশাহ’র ছবি এবং বাহরাইনের যুবরাজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাথে তার (প্রেজে’র) একটি ছবি ইন্টারনেটের ওয়েব পেজগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে।
তিনি বলেন : ইসরাইলি ব্যক্তিত্ব ও আলে খলিফা পরিবারের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কেননা ইন্টারনেটে বিভিন্ন ছবি বিদ্যমান রয়েছে যে, ইসরাইল ও আলে খলিফা সরকারের কর্মকর্তারা পরস্পরের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বলাবাহুল্য, সম্প্রতি একটি খবর প্রচারিত হয়েছে যে, ইসরাইলের সহযোগিতায় বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্যরা গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। জনগণের বিক্ষোভকে দমন করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনী’র সৈন্যদেরকে আরো শক্তিশালী ও দক্ষ করে তুলতে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
জনাব আল-শাহাবি এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে, এ বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়াটা নতুন কিছু নয়, কেননা জায়নবাদী পত্রিকা ‘মায়ারিও’ ১৯৯৮ সালে একটি তথ্য প্রকাশ করেছিল যে, নব্বইয়ের দশকে বাহরাইনের গণঅভ্যূত্থানের সময় এ অভ্যূত্থানের মোকাবেলা করার জন্য ইসরাইল বাহরাইন সরকারের সহযোগিতা করেছিল।
বাহরাইনের ফ্রিডম মুভমেন্টের প্রধান সাঈদ আল-শাহাবি বলেছেন : জায়নবাদি ইসরাইলের সাথে বাহরাইনের স্বৈরাচারী সরকারের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়, কেননা তারা উভয়েই অন্যের ভূখণ্ড দখল করে আছে, তাদের উভয়েই সংখ্যা লঘু এবং তাদের দেশের অধিকাংশ জনগণই নির্যাতিত।
তিনি বলেন : ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী গণ বিক্ষোভকে দমন করার ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী আলে খলিফা কখনই সফল ছিল না।
তিনি আরো বলেন : ইরাকে পরাজয়ের পর মার্কিনীরা এবার আফগানিস্তানে তাদের পরাজয়ের কথা বলছে। আর ইহুদিবাদী ইসরাইলও গাজা ও ফিলিস্তিনী সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দীর্ঘ ৬০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখনও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। কেননা শুধুমাত্র ক্ষমতা গ্রহণ করা পরিস্থিতির নির্ধারক নয়, বরং ইতিহাসে সর্বদা সাধারণ জনতারই বিজয় হয়েছে।#