আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সিরিয়ার জনগণ ও বাশার আল আসাদের সরকার দীর্ঘ বছর যাবত ইসলামি প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন জানানোর খেসারত দিতে হচ্ছে, আর এ কারণেই আরব ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি দেশটির জনগণ ও সরকার। তারা যখন শত্রুদের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় বিজয়ী হয় তখন শত্রুরা পূনরায় নতুন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা আঁকতে বসে। সিরিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুতা ও সিরিয়ার সরকার বিরোধীদেরকে সশস্ত্র করণের মূখ্য উদ্দেশ্য হল ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করা।
নিম্নে যা কিছু উল্লিখিত হবে তা হল সিরিয়ায় ঘটমান সর্বশেষ ঘটনাবলী’র উপর একটি প্রতিবেদন :
হেমাছ অঞ্চল হতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পলায়ন
সিরিয়ার সামরিক বাহিনী হেমাছ শহরের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভে সক্ষম হওয়ার পর, কথিত ফ্রিডম বাহিনী তাদের পলায়নকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সূত্রসমূহ হেমাছ শহরের ‘বাবা আমর’ অঞ্চলের উপর সিরিয়া সামরিক বাহিনী’র পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভের কথা উল্লেখ করে ঘোষণা করেছে যে, হেমাছ শহর আস্তে আস্তে পরিপূর্ণরূপ সামরিক বাহিনীর দখলে চলে আসছে।
সিরিয়া সামরিক বাহিনী’র অগ্রসরে ফলে সরকার বিরোধীদের পিছু হটা ও পলায়নের খবর প্রচার করেছে সংবাদ মাধ্যমসমূহ।
সিরিয়া সামরিক বাহিনী হতে পলাতক কর্নেল ও কথিত ফ্রিডম বাহিনী সন্ত্রাসী দলের প্রধান তার সশস্ত্র বাহিনী’র মনোবল জিঁইয়ে রাখার জন্য ‘বাবা আমর’ অঞ্চল হতে তার পলায়নকে একটি যুদ্ধ কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী হেমাছ শহরে অস্ত্র পাচার হওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার বিরোধী সন্ত্রাসী ঐ দলটি অস্ত্র স্বল্পতাকে তাদের পশ্চাদপসারণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বাবা আমরের পতনের মধ্য দিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেলো কথিত ফ্রিডম বাহিনী’র
সিরিয়ান সৈন্যরা হেমাছ শহরের বাবা আমর অঞ্চলে প্রবেশ করে এ অঞ্চলের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভের পর এ অঞ্চলে পূনরায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
সিরিয়া সামরিক বাহিনী’র এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে যে, উক্ত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়ার জন্য সিরিয়া সামরিক বাহিনী গত বুধবার সকাল হতে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে বিদেশীসহ শত শত সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রেপ্তার হয় এবং এ অঞ্চলে পূনরায় শান্তি ফিরে আসে।
এদিকে কিছু কিছু সূত্র জানিয়েছে যে, সন্ত্রাসীদের মধ্য হতে কেউ কেউ পূর্ব হতে উক্ত অভিযানের পরিকল্পনার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে অভিযানের পূর্বের রাতে লেবানন সীমান্তের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পালানোর সময় তারা পূর্ব হতে ওঁৎ পেতে থাকা ইসরাইলী ও মার্কিন অস্ত্রধারী সিরিয়ার কথিত ফ্রিডম বাহিনী’র সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে।
তুরস্ক সীমান্তে অতি শীঘ্রই সৈন্য প্রেরণ করবে সিরিয়া
বিশিষ্ট সিরিয়ান রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন : আগামী ১০ দিনের মধ্যে সিরিয়া সামরিক বাহিনী এদেশের উত্তর অঞ্চলে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালাবে।
‘মুহাম্মাদ দ্বাররার জাম্মু’ সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে বিদ্যমান বর্তমান স্থিতিশীলতাকে ঝড়ের পূর্বের শান্ত পরিবেশের সাথে তুলনা করেছেন। তার ভাষ্যমতে ‘আদলেব’ হতে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্ত অবধি এ অভিযান চালানো হবে।
বলাবাহুল্য, সশস্ত্র দলগুলো আদলেব অঞ্চলকে তাদের জন্য নিরাপদ ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল হিসেবে জানে। তারা মনে করে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী ঐ অঞ্চলে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।
এ সময় তিনি সিরিয়ার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সিরিয়ান সৈন্যদের প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করেন।
হেমাছ হতে ফরাসী সেনা গ্রেপ্তার
সিরিয়ার সরকার বিরোধী সশস্ত্র সৈন্যদেরকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সিরিয়ায় প্রবেশকারী কয়েকজন ফরাসী সামরিক অফিসারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে সিরিয়ান সৈন্যরা।
সংবাদ সূত্রসমূহ জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ঐ ফরাসী অফিসাররা লেবাননের কিছু কিছু রাজনৈতিক মুভমেন্টের সহযোগিতায় সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহযোগিতার জন্য এদেশের প্রবেশ করেছিল। কিন্তু তারা এদেশের সামরিক বাহিনী’র হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে প্যারিসের জন্য উদ্বিগ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সূত্রসমূহ তিউনিশিয়া অনুষ্ঠিত সিরিয়া বিষয়ক সভায় ফ্রান্স ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মাঝে মত বিরোধের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, ঐ মত বিরোধের কারণের সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী সভা ত্যাগ করেন।
ফরাসী চ্যানেল ‘ওয়াল্টার’ ঘোষণা করেছে যে সিরিয়ায় সর্বমোট ১৮ জন ফরাসী সামরিক অফিসার গ্রেপ্তার হয়েছে।
সিরিয়ার উপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সূত্রসমূহ এ তথ্য ফাঁস করেছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) সিরিয়ার উপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এ সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ চ্যানেল সি এন এন’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছে : উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই তা বাস্তবায়িত হবে।
ঐ সূত্র জানিয়েছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ পরিষদ কর্তৃক ঐ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে সিরিয়ার উপর হামলার জন্য বিভিন্ন স