আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ‘ডেরা ইসমাঈল খান’ হতে আরো এক শহীদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল –বৃহস্পতিবার, ১২ই এপ্রিল- ঐ শহীদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পাকিস্তান হতে আবনা প্রতিবেদক জানিয়েছে যে, গতকাল নাভেদ হুসাইনে’র লাশ এদেশের শিয়া অধ্যুষিত ‘ডেরা ইসমাঈল খান’ এলাকায় পাওয়া গেছে। নাভিদ হুসাইন ২ বছর পূর্বে রমজান মাসে লাহোর শহর হতে মিয়ানওয়ালী’র ‘সাহরায়ে মুহাজির’ এলাকা ফেরার পথে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হন। অতঃপর এ দীর্ঘ সময় তাকে অবৈধভাবে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের কারাগারে আটকে রাখা।
এ নাগাদ পাকিস্তানী গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ বাহিনী’র কর্তৃক ডেরা ইসমাঈল খান অঞ্চল হতে অপহৃত ২১ জন ব্যক্তির একজন হচ্ছেন নাভিদ হুসাইন। তার লাশ ‘ডেরা ইসমাঈল খান’ অঞ্চলের ‘কান্দিয়ানা’ এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বলাবাহুল্য, পাকিস্তানি এ শহীদের মা নাভেদে’র মুক্তির জন্য পাকিস্তান সুপ্রিম কোটে মামলা করেছিল এবং আজ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ সভায় তার মামলার বিষয়টি উত্থাপনের কথা ছিল।
শহীদ নাভেদ হুসাইন এমন একটি পরিবারের সদস্য, যে পরিবারটি পাকিস্তানে ‘শহীদ পরিবার’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে, কেননা তার এক ভাই এবং বোনের স্বামী, তাকফিরী (অন্যদেরকে কাফের আখ্যায়িতকারী) সন্ত্রাসীদের হাতে শাহাদাত বরণ করেছেন এবং তার অপর এক ভাই এখনো পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ বাহিনী’র হাতে আটক রয়েছে। নাভিদ হুসাইনের শাহাদাতের সাথে সাথে এ সম্ভাবনা তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে যে, তার ভাইও তার মত একই পরিণতির শিকার হতে পারে।
পাকিস্তান হতে প্রেরিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ডেরা ইসমাঈল খান অঞ্চলে আয়োজিত শহীদ নাভেদের জানাযায় মাত্র ২৭ জন অংশগ্রহণ করেছে। সরকারী বাহিনী’র ভয়ে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজনও তার জানাযায় অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থেকেছে।
উল্লেখ্য, শহীদ নাভেদ হুসাইনে’র লাশের খোঁজ পাওয়ার ২৪ ঘন্টা পূর্বে ‘ডেরা ইসমাইল খান’ অঞ্চলের ‘পাহাড় পুর’ এলাকা হতে ‘যাফার আলী’ নামক অপর এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। যাফার আলীও ইতিপূর্বে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হন এবং পরবর্তীতে তাকে গোপনে কারাগার হতে বের করে হত্যা করা হয়। যাফার আলীকেও নাভিদ হুসাইনের মত ২ বছর পূর্বে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার লাশ পাহাড়পুরের ‘রামাক’ অঞ্চল হতে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, পাকিস্তান সরকার ও এদেশের সামরিক বাহিনী’র সাথে সম্পৃক্ত গোপন সংস্থাগুলো এদেশের শত শত যুবককে অবৈধভাবে আটকে রেখেছে, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া যুবকও রয়েছে, শুধুমাত্র ডেরা ইসমাইল খান অঞ্চল হতে ২১ জন ধার্মিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সক্রিয় যুবককে অপহরণ করেছে। এদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র। এ সকল যুবকদের গ্রেপ্তারের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি এবং এ দুই যুবকের হত্যার পর অপহৃত অপর যুবকরা একই ধরণের পরিণতি তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যদি শিয়া নেতারা এদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনী’র উপর চাপ সৃষ্টি করে তবে তাদের মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কেননা তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তাদের একমাত্র অপরাধ হচ্ছে তারা এদেশে ব্যাপক শিয়া হত্যার বিরুদ্ধে এ শহরের শিয়াদেরকে সোচ্চার করার লক্ষ্যে তত্পর ছিলেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি শিয়াদের গণহত্যা রোধ করা।#