শুধুমাত্র শিয়া মাযহাবের অনুসারীরাই হযরত ফাতেমা (সালামুল্লাহি আলাইহা) এর মহান মর্যাদার বিষয়ে বিশ্বাসী নয় যে, হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর শানে যে বিভিন্ন আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এ বিষয়ে সুন্নি মাযহাবের অনুসারীরাও বিশ্বাসী। আর অনেক ক্ষেত্রে শিয়া ও সুন্নি আলেমদের বিশ্বাস ও ইজমা এ বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে না।
আর এ মহীয়সী নারীর প্রশংসা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর মুখে উচ্চারিত হয়েছে; যা শিয়া ও সুন্নি রাবীদের (বর্ণনাকারী) মারফত আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে।
শুধুমাত্র তাঁর কন্যা হওয়ার কারণে মহানবী (স.) হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) সম্পর্কে এ সকল হাদীস তার বলেননি। কারণ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর ওহী ব্যতীত মহানবী (স.) কোন কথা বলেননা, পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে :
«وما ینطق عن الهوی إن هو إلا وحیٌ یوحی».
অনুবাদ : “এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। (তার কথা) ওহী যা প্রত্যাদেশ হয় তা ব্যতীত নয়।” (সূরা নাজম : ৩ ও ৪)
যা কিছু মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) হযরত ফাতেমা (সা. আ.) সম্পর্কে বলেছেন তা তাঁর অন্যান্য বাণীর ন্যায় ওহী হতে সংগৃহীত। আমরা মহানবী (স.) কর্তৃক বর্ণিত হযরত ফাতেমা (সা. আ.) এর সম্পর্কে বর্ণিত এমন কিছু হাদীস এখানে উল্লেখ করবো যেগুলো সুন্নি ও শিয়া মাযহাবের গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হাদীস হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে :
(১) হাম্বালী মাযহাবের ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (মৃত্যুকাল ২৪১ হিজরী) নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন যে,
«نظر النبى صلی الله علیه و (آله) و سلم الى علی و الحسن و الحسین و فاطمة فقال: «انا حرب لمن حاربکم و سلم لمن سالمکم».
অনুবাদ : “নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি [ওয়া আলিহি] ওয়া সাল্লাম, আলী, হাসান, হুসাইন ও ফাতেমার (তাদের উপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক) দিকে তাকিয়ে বললেন : যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে সে আমার সাথেও যুদ্ধে লিপ্ত, আর যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সন্ধী ও শান্তি স্থাপন করবে আমিও তাদের সাথে সন্ধী ও শান্তি স্থাপন করবো”।
(২) আহমাদ ইবনে হাম্বাল ও তিরমিজীসহ সুন্নি মাযহাবের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুহাদ্দিস হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (স.) তাকে বলেছেন : কিছুক্ষণ পূর্বে যে আমার নিকট এসেছিল তাকে কি তুমি দেখেছো? সে ছিল একজন ফেরেশতা; যে এর পূর্বে কখনই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়নি। সে আমাকে সালাম ও এ সুসংবাদ প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট আবেদন জানিয়েছে যে, ফাতেমা বেহেশতের নারীদের সম্রাজ্ঞী এবং হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার।
(৩) যাহাবী বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (স.) বলেছেন :
«اول شخص یدخل الجنة فاطمة بنت محمد (ص)».
অনুবাদ : “সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করবেন তিনি হচ্ছে মুহাম্মাদের (স.) কন্যা ফাতেমা”।
(৪) মুহীবুদ্দীন তাবারী নিজস্ব সনদে মহানবী (স.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন :
«اربع نسوة سیدات عالمهن، مریم بنت عمران و آسیة بنت مزاحم و خدیجة بن خویلد و فاطمه بنت محمد ( صلى الله علیه و آله) و افضلهن عالما فاطمه (سلام الله علیها».
“চারজন নারী বিশ্বের নারীদের সর্দার, ইমরানের কন্যা মারইয়াম (সা. আ.) [হযরত ঈসা (আ.) এর মাতা], মুযাহিমের কন্যা আসিয়া (সা. আ.) [ফেরাউনের স্ত্রী], খোওয়ালাদের কন্যা খাদিজা (সা. আ.) [মহানবী (স.) এর স্ত্রী] এবং মুহাম্মাদ (স.) এর কন্যা ফাতেমা [সা. আ.], যিনি হচ্ছেন হচ্ছেন এদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট।
(৫) সুন্নি মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস বুখারী (মৃত্যুকাল ২৫৬ হিজরী) নিজস্ব সনদে মুহাম্মাদ (স.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন :
«فاطمه بضعة منى فمن اغضبها اغضبى».
অনুবাদ : “ফাতেমা আমার শরীরের একটি অংশ স্বরূপ, যে রাগান্বিত করে সে আমাকে রাগান্বিত করে”।
(৬) আহমাদ ইবনে হাম্বাল তার নিজস্ব সনদে আল্লাহর রাসূল (স.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন :
«انما فاطمة بضعة منى یوذینى ما اذاها و ینصبنى ما انصبها».
অনুবাদ : “ফাতেমা আমার শরীরের অংশ স্বরূপ, যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকে কষ্ট দেয়, আর যা কিছু তাকে অসন্তুষ্ট করে তা আমাকেও অসন্তুষ্ট করে।