৩১ মে ২০১২ - ১৯:৩০

মহানবী (স.) এর আহলে বাইতের ৯ম ইমাম হযরত মুহাম্মাদ তাকী (আ.) এর পবিত্র জন্মদিন আজ।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার সাংস্কৃতিক বিভাগ : ইমাম মুহাম্মাদ তাকী (আ.) ১৯৫ হিজরীতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করে। তাঁর সম্মানিত পিতা ছিলেন অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)। ইতিহাসে তার সম্মানিত মাতার দু’টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবিকাহ’ অথবা ‘খিযরাওয়ান’। ২০৩ হিজরীতে পিতা ইমাম রেজা (আ.) এর শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব অর্পিত হয় হযরত মুহাম্মাদ তাকী আল-জাওয়াদের উপর যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর।

ইমাম মুহাম্মাদ তাকী (আ.) এর সমসময়ের খলিফাগণ তাকে অপমান ও প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন কূটকৌশল অবলম্বন করত। কিন্তু মহান আল্লাহর সাহায্যে ইমাম (আ.) সে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতেন, ফলে তারাই প্রতিপন্ন হত।

ঐ সকল কূটকৌশলের একটি ছিল দরবারে বিভিন্ন মুনাযিরার আয়োজন করা। খলিফা দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ফকীহদেরকে একত্রিত করে ইমামকে মুনাযিরার আহবান জানাতো। ইতিহাসে অনেক মুনাযিরার কথা উল্লেখিত হয়েছে, দৃষ্টান্ত হিসেবে এখানে একটি মুনাযিরা উল্লেখ করা হল :

আইয়াশী স্বীয় তাফসির গ্রন্থে যারকান –যে ছিল আহমাদ ইবনে আবি দাউদের সাথী- হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন : একদা তার বন্ধু (ইবনে আবি দাউদ) মু’তাসিম আব্বাসী’র দরবার হতে ফিরছিল এবং তাকে অত্যন্ত ভরাক্রান্ত দেখাচ্ছিল।

আমি বললাম : কি হয়েছে, আজ তোমাকে এমন ভারাক্রান্ত দেখাচ্ছে কেন? সে বললো : খলিফা ও আলী ইবনে মুসা আল-রেজা’র পুত্র আবু জাফারের মাঝে এমন কিছু ঘটেছে যা আমাদের লজ্জা ও প্রতিপন্ন হওয়ার কারণ হয়েছে।

আমি বললাম : কিভাবে?

সে বললো : খলিফার সমীপে একজন চোরকে আনা হল, যার চুরির বিষয়টিও ছিল স্পষ্ট এবং যে নিজের কৃতকর্মের বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছিল। এমতাবস্থায় খলিফা ইসলামি শরিয়তের ভিত্তিতে তার শাস্তির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। ফকীহদের মধ্যে একটি দল উপস্থিত ছিলেন। খলিফা অন্যান্য ফকীহদেরকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মুহাম্মাদ বিন আলী আল-রেজাকেও ডেকে পাঠালেন।

খলিফা আমাদের নিকট জিজ্ঞেস করলেন : (চুরির বিষয়ে) ইসলামি হদ কিভাবে জারী করতে হবে? আমি বললাম : তার কব্জি পর্যন্ত হতে কেটে ফেলতে হবে।

খলিফা বললেন কোন দলিলের ভিত্তিতে? আমি বললাম : এ দলীলের ভিত্তিতে যে, আঙ্গুলসমূহ ও কব্জিদ্বয়, হাত হিসেবে গন্য হয়। আর পবিত্র কুরআনে এসেছে যে, তোমরা মাসেহ কর তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতদ্বয়কে।

উপস্থিত অনেক ফকীহই আমার কথার পক্ষে সমর্থন জানালেন।

ফকীহদের আরেকটি দল বললেন : কনুই হতে হাত কর্তন করতে হবে।

খলিফা জিজ্ঞেস করলেন : কোন দলিলের ভিত্তিতে?

তারা বললেন : ওজুর আয়াতের ভিত্তিতে, পবিত্র কুরআনে এসেছে : .... ধৌত করো তোমাদের হাতদ্বয়কে কনুই পর্যন্ত। আর এ আয়াত হতে স্পষ্ট হয় যে, চোরের হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হবে।

অপর একটি দল বললো : কাঁধ হতে হাত কেটে ফেলতে হবে কেননা পরিপূর্ণ অংশকেই (আঙ্গুল, কব্জি ও কনুই) হাত বলা হয়।

উক্ত বিষয়ে ফকীহদের মাঝে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর খলিফা, আবু জাফার মুহাম্মাদ বিন আলী’র দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন : হে আবু জাফর! এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন : উপস্থিত ওলামাগণ এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, আমাকে মতামত প্রদানের বিষয়ে ক্ষমা করুন।

খলিফা বললেন : আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি এ বিষয়ে আপনার মতামত বলুন।

তিনি বললেন : যখন আমাকে আল্লাহর দোহাই দিলেন তখন আমি তার উত্তর বলবো। যে মতামত আহলে সুন্নতের ওলামারা প্রদান করেছেন তা ভুল। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী (এ বিষয়ে) হদ জারীর জন্য অবশ্যই বৃদ্ধাঙ্গুল ব্যতীত হাতের সকল আঙ্গূল কেটে ফেলতে হবে।

খলিফা জিজ্ঞেস করলেন : কেন?

ইমাম (আ.) বললেন : কেননা আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন : সিজদা শরীরের ৭টি অঙ্গের উপর সঠিক হবে; কপাল, দুই হাতের তালু, দুই পায়ের হাটু এবং দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের উপর। তাই যদি (তার হাতকে) কাঁধ হতে অথবা কনুই হতে অথবা কব্জি হতে হাত কেটে ফেলো তবে আল্লাহকে সিজদা করার জন্য তার প্রয়োজনীয় অঙ্গ থাকবে না এবং পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই সিজাদার স্থানসমূহ আল্লাহর জন্য... সুতরাং সেগুলোকে কর্তনের অধিকার কারো নেই।

মু’তাসিম আল্লাহর এ নির্দেশ ও উপস্থাপিত যুক্তি হতে সন্তুষ্ট হলেন এবং এর প্রতি সমর্থন জানালেন এবং ইমাম জাওয়াদ (আ.) এর কথামত চোরের আঙ্গুল কর্তনের নির্দেশ দিলেন।

যারকান বলেন : খলিফার সম্মুখে তার মতামত প্রত্যাখ্যাত হওযার কারণে আবু দাউদ ছিল। এ ঘটনার তিনদিন পর সে মু’তাসিমের নিকট এসে বললেন : হে আমিরুল মু’মিনীন, আমি আপনাকে নসিহত করতে এসেছি, আপনার যে ভালবাসা আমাদের উপর রয়েছে তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার বশতঃ এ নসিহত করছি।

মু’তাসিম বললো : বলো।

ইবনে আবি দাউদ বললেন : কোন বিষয় অথবা বিষয়াবলীকে উত্থাপনের জন্য যখন ফকীহ ও ওলামাদের নিয়ে কোন সভার আয়োজন করেন তখন দেশের ও সৈন্যদলের কর্মকর্তারা এমনকি পরিচারক, সভাসদ ও রক্ষীরাও ঐ সভায় যে কথাবার্তা হয় তার সাক্ষী থাকে। যখন তারা দেখে যে, মুহাম্মাদ বিন আলী আল-জাওয়াদের মতামতের বিপরীতে আপনার গন্যমান্য আলেমদের মতামত মূল্যহীন তখন তারা আস্তে আস্তে তার (মুহাম্মাদ বিন আলী) প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে এবং খেলাফ