বার্তা সংস্থা আবনা : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আল জাফারি বলেছেন, সিরিয়া সরকারের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়কে ইরান গৌরবজনক বলে মনে করে। তিনি রোববার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, (ইসরাইল বিরোধী) প্রতিরোধ আন্দোলনের সম্মুখশক্তি হিসেবে সিরিয়া সরকারকে সব ধরনের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করাকে ইরান নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। দেশটির সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের প্রতি বিদেশি সামরিক সহযোগিতার কঠোর নিন্দা জানান তিনি।
সিরিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা চুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল জাফারি বলেন, "পরিস্থিতি অনুযায়ী ইরান ব্যবস্থা নেবে। আমি এখানে স্পষ্ট করে দিতে চাই, সিরিয়ায় বিদেশি আগ্রাসন হলে ইরান বাশার আসাদ সরকারকে রক্ষার জন্য দেশটিতে সামরিক বাহিনী পাঠাবে।"
লেবাননের হিযবুল্লাহ সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে কিনা- এ রকম এক প্রশ্নের উত্তরে আইআরজিসি'র প্রধান বলেন, হিযবুল্লাহ একটি স্বাধীন সংগঠন এবং তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনটি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং সেখানে ইরানের কোন হাত নেই। ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠন হিসেবে ইহুদিবাদ বিরোধী যে কোন শক্তিকে সহায়তা করার অধিকার হিযবুল্লাহ রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হুমকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল জাফারি বলেন, সম্ভাব্য এ হামলার কাজে ইসরাইল আমেরিকাকে নিজের মিত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না, কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং ইরান আক্রান্ত হলে আমেরিকার মারাত্মক ক্ষতি হবে।
আইআরজিসি'র প্রধান বলেন, "ইসরাইলের বিরুদ্ধে আমাদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত পরিস্কার। আমি মনে করি ইরানে হামলা হলে ইসরাইল নামের কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না। ইসরাইলের ক্ষুদ্র আকারের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাকে তুলনা করে বলতে পারি, অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো একটি স্থানও হামলার আওতার বাইরে থাকবে না।"
ইসরাইল সাম্প্রতিক সময়ে বারবার ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে। তেহরান ওই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বাসনা থাকলে তেলআবিব যেন ইরানে হামলা না চালায়।#
(সূত্র : রেডিও তেহরান)