৫ অক্টোবর ২০১২ - ২০:৩০

ইরানের প্রভাবশালী নেতা ও তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি বলেছেন, মার্কিন সরকার তেহরানের মোকাবেলায় সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে, তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

বার্তা সংস্থা আবনা : ইরানের প্রভাবশালী নেতা ও  তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি বলেছেন, মার্কিন সরকার তেহরানের মোকাবেলায় সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে, তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে গত তেত্রিশ বছরে মার্কিন সরকারের শয়তানি অন্তত ৩৩ গুণ বেড়েছে।

আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি আজ তেহরানের জুমা নামাজের খোতবায় এইসব মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন,  ইসলামী ইরান আধিপত্যকামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রবল শক্তিমত্তা নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং আমেরিকা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের অগ্রযাত্রা মোকাবেলার জন্য বিশেষ কমান্ড-কেন্দ্র গঠন করেছে।

খাতামি  ইরানের ইসলামী সরকার-বিরোধী মোনাফেক গোষ্ঠী নামে কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘এমকেও’র নাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য মার্কিন সরকারের তীব্র নিন্দা জানান।  এই মোনাফেক গোষ্ঠীর হাতে ইসলামী ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাসহ ১৬ হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক হত্যার জঘন্য রেকর্ড তুলে ধরে খাতামি বলেন,  মার্কিন সরকারের সরাসরি নির্দেশেই এমকেও’র সন্ত্রাসীরা ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও নেতাকে শহীদ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর  ‘এমকেও’র নাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব ইরানের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চলমান নানা চাপ ও নিষেধাজ্ঞাকে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ইরাকের সাদ্দামকে দিয়ে ৮ বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েও তারা তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে পারেনি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক যুদ্ধেও তারা জয়ী হতে পারবে না, কারণ, চলমান এই যুদ্ধ আগের যুদ্ধের চেয়ে অনেক সহজ।

ইরানের ঘরোয়া পরিস্থিতি ভালই রয়েছে এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেন, ইরানিরা গত ৩৩ বছর ধরেই নানা সমস্যা মোকাবেলা করে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদের এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই।

তেত্রিশ বছর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) মার্কিন সরকারকে বড় শয়তান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সে সময় ইরানের বিপ্লবী ছাত্ররা গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মার্কিন কূটনীতিকদের আটক করায় তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ওয়াশিংটন। ৪৪৪ দিন আটক রাখার পর হীনতাজনক শর্তে তাদের মুক্তি দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু তার পর থেকে এখনও দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রেডিও তেহরান