বার্তা সংস্থা আবনা : আন্তর্জাতিক গাদীর সম্মেলনের উপর বিশেষ প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব আবনা পাঠকদের জন্য ইতিপূর্বে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে সকালের অধিবেশনের উপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছিল, দ্বিতীয় পর্বে বিকেলের অধিবেশনে বক্তাদের বক্তব্যের উপর একটি প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
বিকেলের অধিবেশন
* আন্তর্জাতিক গাদীর সম্মেলনের বিকেলের অধিবেশনেও ইরানি ও বিদেশী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এ অধিবেশন ‘আলহাজ্ব গোলাম রেজা সাযগার’ কর্তৃক ইসলামি সঙ্গিত পরিবেশন ও আয়াতুল্লাহগণ সাজ্জাদী ও মুওয়াহেদী’র বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয়।
* আয়াতুল্লাহ মুওয়াহেদী আবতাহী বিকেলের অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন : গাদীর সম্মেলন জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য পথ নির্দেশক স্বরূপ।
হাওযা ইলমিয়ার এ প্রখ্যাত উস্তাদ বলেন : মুসলমানদের উচিত পবিত্র কুরআনের মৌলিক ও গভীর শিক্ষার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে এ শিক্ষাকে নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা।
তিনি বলেন : যদি পবিত্র কুরআনের নির্দেশের বিপরীতে আমরা গাফিলতি করি এবং যা কিছু এতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পালন না করি তবে আমারা জন্য বৃহত বিপদের সম্মুখীন এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হব।
* দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আয়াতুল্লাহ সাজ্জাদী, তিনি বলেন : ইরানের জনগণ শিয়া মাযহাবের বিজয়ে গর্বিত।
হাওযা ইলমিয়া’র সনামধন্য এ শিক্ষক বলেন : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কল্যাণে ইসলাম ধর্ম ও শিয়া মাযহাব বর্তমানে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। আমরা আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারী হয়ে এবং তাদের মাযহাবের অনুসরণ করে অত্যন্ত গর্বিত।
তিনি বলেন : পবিত্র কুরআনের আয়াতের ভিত্তিতে মহান আল্লাহ্ স্বীয় নবী (স.) কে ঈশী বার্তা জনগণের নিকট প্রচারের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঐ নির্দেশ বলা হয়েছিল যে, যদি তিনি এরূপ না করেন তবে তার রেসালাতের কার্যক্রম অসমাপ্ত থেকে যাবে।
আন্তর্জাতিক গাদীর সম্মেলন সমগ্র বিশ্বে শিয়া মাযহাবের নির্ভেজাল সংস্কৃতির প্রসারের কারণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করে এ তত্পরতা অব্যাহত থাকার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
* এরপর দেশী-বিদেশী কয়েকজন চিন্তাবিদ তাদের প্রবন্ধ পাঠ করেন।
* নাইজেরিয়ান এক গবেষক বলেছেন : গাদীর, মুসলমানদের সমস্যা সমাধানের পৃষ্ঠপোষক স্বরূপ।
জনাব ইদ্রিস সামাভী বলেন : গাদীর সংস্কৃতি হতে যুতটুকু সম্ভব উপকৃত হতে হবে এবং মুসলমানদের বর্তমান সমস্যার সমাধানে সেগুলোকে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন : ইসলাম ইমামত ও নেতৃত্বের প্রয়োজন রাখে, যাতে এর মাধ্যমে স্বীয় জীবনদানকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। আর গাদীর সংস্কৃতি হতে প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় ফল হচ্ছে এটাই।
জনগণকে নেতৃত্ব ও নির্দেশনা দান শুধুমাত্র পার্থিব বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয় –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ফের্কাহ’র মাঝে ঐক্যের সৃষ্টি গাদীর সংস্কৃতির দ্বিতীয় ফল।
জনাব সামাভি বলেন : মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের অর্থ নিজেদের মাযহাবের পরিবর্তন নয়। সকল মুসলমানদের জানতে হবে আমাদের মাঝে অধিকাংশ বিষয়ে মিল থাকা সত্ত্বেও ইসলামের শত্রুরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোক বড় করে দেখিয়ে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টায়রত। সকল মাযহাবের অনুসারীদের উচিত নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র নিস্ক্রিয় করা।
* একজন ধর্মীয় আলেম স্বীয় প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর বলেন : পাকিস্তান ও এদেশের জনগণের আবেদন; লেবানন, ইয়েমেন, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের মুসলমানদেরকে যেভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে মুসলিম সমাজ যেন পূর্বের ন্যায় তাদের প্রতিও সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।
হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর অবমাননায় যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণের পর প্রথম যে সকল দেশের জনগণ মার্কিন দূতাবাসের সম্মুখে সমাবেশ ও মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছিল তাদের মাঝে পাকিস্তানের জনগণও অন্যতম –এ কথা উল্লেখ করে হুজ্জাতুল ইসলাম আবুযার বলেন : এটা পাকিস্তানি শিয়া মুসলমানদের জন্য গর্বের বিষয় যে, তার অবমাননাকর এ চলচ্চিত্রের প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিল।
* সৌদি এক গবেষকও এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন : তিনি বলেন, মুসলিম সমাজকে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে, যাতে সে মুসলমানদেরকে পথের নির্দেশনা দিতে পারে।
জনাব আব্দুল ওয়াদুদ খালিল, ইসলামি রেওয়ায়েতসমূহের প্রতি ইশারা করে বলেন : গাদীরের বিষয়টি মুসলমানদের নেতৃত্ব ও তাদের বেলায়েতের সাথেও সম্পৃক্ত যাতে ইসলামি সমাজের নেতা মুসলমানদের সমস্যা সমাধান করতে পারে এবং তাদেরকে বিভিন্ন বিপর্যয় ও সমস্যাবলী থেকে রক্ষা করতে পারে।
* সিয়েরা লিওনে’র এক মুসলিম গবেষক তার প্রবন্ধে বলেন : মহান আল্লাহ গাদীর দিবসে তার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং মহানবী (স.) এর রেসালতকে সম্পূর্ণ করেছেন।
জনাব শেইখ মুহাম্মাদ বা’ বলেন