২৩ অক্টোবর ২০১২ - ২০:৩০

ইমামকে চেনার দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে মহানবী (স.) নিজেই ইমামদেরকে পরিচয় করাবেন। আর তিনি স্বীয় জীবদ্দশায়তেই এ কাজটি করেছেন এবং ১২ জন ইমামের প্রত্যেকের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানস্থ আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক শোক অনুষ্ঠান গতকাল (২৪শে অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহাম্মাদ হাসান আখতারী তার বক্তৃতায়, ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপনের পর ইমাম (আ.) গণকে চেনার উপায়ের বিবরণ তুলে ধরেন।

নিজের ইমামকে চেনা, শিয়াদের জন্য একটি অত্যাবশ্যক বিষয় এবং আল্লাহর হুজ্জাতদেরকে চেনার জন্য ৩টি পথ রয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচীব বলেন : মহান আল্লাহ্ জনগণকে তাদের ইমামের বিষয়ে অবগত করবেন তথা ইমামকে তাদের উদ্দেশ্যে পরিচয় করাবেন। ইমামকে চেনার দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে মহানবী (স.) নিজেই ইমামদেরকে পরিচয় করাবেন। আর তিনি স্বীয় জীবদ্দশায়তেই এ কাজটি করেছেন এবং ১২ জন ইমামের প্রত্যেকের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় পথটি হল ইমাম, পূর্ববর্তী ইমাম কর্তৃক মনোনীত ও তাকে জনগণের মাঝে পরিচয় করানো হবে।

তিনি তার বক্তব্যে একটি হাদীসে কুদসির কথা উল্লেখ করে বলেন : ‘ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) কে বললেন : হে জাবের! যে ফলক (আরবিতে লাওহ বলা হয়) তুমি নবী কন্যা; আমার মা হযরত ফাতেমা (সা. আ.) এর নিকটে দেখেছো এবং তা সম্পর্কে যা কিছু তিনি বলেছেন তা আমাকে বলো। জাবের (রা.) বললেন : আল্লাহর কসম আমি মহানবী (স.) এর জীবদ্দশায় আপনার মাতা ফাতেমা –সালামুল্লাহি আলাইহা-এর বাড়ীতে প্রবেশ করে ইমাম হাসান –আলাইহিস সালাম-এর জন্ম উপলক্ষে তাকে মোবারকবাদ দিলাম। এমন সময় তার হাতে একটি সবুজ রঙ্গের ফলক দেখতে পেলাম, মনে হল সেটা জমরুদ (পান্না) পাথরের তৈরী। তাতে সাদা রঙে কিছু লেখা দেখতে পেলাম যেগুলো সূর্যের কিরণের ন্যায় চমকাচ্ছিল। তাঁকে বললাম : আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উত্সর্গ হোক! এ ফলকটি কি? তিনি বললেন : এ একটি ফলক, যা মহান আল্লাহ তাঁর বার্তাবাহকের জন্য উপহার হিসেবে প্রেরণ করেছে। এতে আমার পিতার নাম আমার স্বামীর নাম, আমার দুই সন্তান হাসান ও হুসাইনের নাম এবং আমার সন্তানদের মধ্য হতে তাদের স্থলাভিষিক্তদের নাম একের পর এক উল্লেখ করা হয়েছে। এটা আমার বাবা আমাকে আমাকে উপহার দিয়েছেন। এটা প্রদানের মাধ্যমে তিনি আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন। জাবের (রা.) বলেন : ঐ ফলকটিকে আপনার মায়ের হাত থেকে হাতে নিলাম অতঃপর সেটাকে পড়ে তা হতে একটি কপি তৈরী করে নিলাম। ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) বললেন : হে জাবের! ঐ কপিটি কি আমাকে দেখাতে পারো? জাবের (রা.) বললেন : জ্বী।

ইমাম (আ.), জাবের (রা.) এর সাথে তাঁর বাড়ীতে গেলেন। অতঃপর তিনি স্বযত্নে বিশেষ মলাটে মোড়ককৃত ঐ কপিটি বের করলেন। এ সময় ইমাম বাকের (আ.) বললেন : হে জাবের! এখন তোমার ঐ কপিটিকে দেখো আর ওটাতে যা লেখা আছে তা আমি মুখস্থ পড়ে শোনাই। জাবের (রা.) ঐ কপিটির দিকে দেখতে লাগলেন এবং ইমাম (আ.) ঐ ফলকে যা কিছু লেখা ছিল তা না দেখেই কোনরূপি ত্রুটি বিচ্যুতি ও কমবেশী করা ছাড়াই পড়লেন। জাবের (রা.) অবাক হয়ে বললেন : আল্লাহর কসম আপনি যেভাবে পড়েছেন আমি ঠিক সেভাবেই ঐ ফলকটিকে দেখেছি’।

জনাব আখতারী ইমামতের পক্ষে বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক বিভিন্ন দলিল উল্লেখ অতঃপর ইমামতের সিলসিলা রক্ষার্থে ইমামগণ (আ.) এর তীক্ষ্মবুদ্ধিতা’র দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে বলেন : তত্কালীন আব্বাসীয় খলিয়া মানসুর দাওয়ানেকী –যে ছিল খুবই কঠোর হৃদয়ের অধিকারী এক ব্যক্তি- মদিনার গভর্ণর মুহাম্মাদ বিন সুলাইমানকে এ বার্তা পাঠালো যে, জাফার ইবনে মুহাম্মাদ (ইমাম সাদিক আ.) মৃত্যুবরণ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্তকে খুঁজে বের কর এবং তাকে হত্যা করে তার মাথা আমার নিকট প্রেরণ করো। সে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরবর্তী ইমামকে চিহ্নিত ও হত্যা করে ইমামতের সিলসিলা কর্তনের নীল নকশা এঁকেছিল। মদিনার গভর্ণর ইমাম (আ.) এর স্থলাভিষিক্তকে খুঁজে বের করার জন্য ইমাম (আ.) এর ওসিয়তনামা এনে দেখলো যে, ইমাম সাদিক (আ.) তাতে ৫ ব্যক্তিকে নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন : তারা হলেন পর্যায়ক্রমিকভাবে মানসুরে দাওয়ানেকী, মদিনার গভর্ণর, তাঁর স্ত্রী, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ আফতাহ এবং সর্বশেষে ইমাম মুসা কাযিম (আ.)। মদিনার গভর্নর এ ওসিয়তনামা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হল এবং মানসুরের ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হল। কেননা ইমাম সাদিক (আ.) স্বীয় শাহাদাতের পূর্বে শত্রুদের চক্রান্তের বিষয়টি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই তিনি এরূপ এক ওসিয়তনামা লেখারা মাধ্যমে আল্লাহর হুজ্জাতকে রক্ষা করলেন।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচীব, কবর যিয়ারতের বিষয়ে উত্থাপিত কিছু সংশয়ের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন : ইমামগণ (আ.) এর প্রতি শিয়ারা যে, তাওয়াসসুল করে (তাদেরকে যে ওসিলা বানায়) তার কারণ হল তারা নিষ্পাপ ইমামগণ (আ.) এর মা’রেফাত রাখে এবং তাদের সম্পর্কে পরিচিত।

উল্লেখ্য, আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচীব জনাব আখতারীর বক্তব্যের পর ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.) এর শাহাদাত ও ইমাম হুসাইন (আ.) কর্তৃক কুফায় প্রেরিত দূত হযরত মুসলিম ইবনে আকিলের শাহাদাতের স্মরণে মার্সিয়া ও শোকগাথা পাঠ করেন জনাব রাজাভী।#