২৬ অক্টোবর ২০১২ - ১৭:২৬

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের রাথিডঙ থানায় মুসলিম অধ্যূষিত আরো একটি গ্রামের শ'খানেক ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের রাথিডঙ থানায় মুসলিম অধ্যূষিত আরো একটি গ্রামের শ'খানেক ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) সকালে অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে। গত রোববার থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। এসব সহিংসতায় ২৬টি মুসলিম গ্রামের প্রায় তিন হাজার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী বৌদ্ধ রাখাইনরা। অগ্নিকাণ্ডে মৃত কয়েকশ' মুসলিম নারী-পুরুষের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

এদিকে, উগ্রবাদী বৌদ্ধদের হাতে ১১২ জনের মৃত্যু ও ২০০০ ঘর-বাড়ি পোড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন রাখাইনে প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র উইন মেয়াইং।

মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গাকারী হিসেবে চিহ্নিত 'আরকান লিবারেশন আর্মি'র ৩০ সদস্যের একটি দলকে আজ রাখাইন প্রদেশের মামড়া থানা এলাকা থেকে অস্ত্র-শস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। তাদের কাছ থেকে ২৯টি আধুনিক এ.কে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী 'একেকে' সদস্যদের নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিচরণের দায়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, এদের হাতে অস্ত্র দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করতে উৎসাহ দিয়েছিল দেশটির আধা-সামরিক সরকার।

ওদিকে, গতকাল দাঙ্গাকবলিত এলাকা থেকে যারা নৌকাযোগে আকিয়াবের উপকূলে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়েছিল তাদেরকে এখনো সাগরের মাঝে ঘিরে রেখেছে সেদেশের নৌবাহিনী।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাথিডং শহরতলিতে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।কিন্তু এর পরই তা কায়য়োক শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ গুলি ছুঁড়েছে।সেখানে বহাল রয়েছে রাত্রিকালীন কার্ফু।

তবে মিয়ানমারের আতংকিত, স্বজন হারানো ও গৃহহীন মুসলমানদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আগামীকাল ঈদ-উল আজহার উৎসব পালন করতে পারবে না।

বার্মিজ মুসলিম এসোসিয়েশন ও উলেমা কাউন্সিল ইন মিয়ানমার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার ইরাওয়ারদী পত্রিকা।

মুসলমানরা জানিয়েছে, তাদের অনেক এলাকায় এখনো পশু কোরবানির জন্য সরকারীভাবে অনুমতি দেয়া হয়নি। অনেকের কোরবানি করার মতো সামর্থ্য নেই। এছাড়া, গোটা দেশে যেখানে মুসলিম নিধন চলছে সেখানে এর প্রতিবাদেই তারা এ বছর কোরবানি বর্জন করেছে। #

রেডিও তেহরান