বার্তা সংস্থা আবনা : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রোববার ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশবিক হামলায় অন্তত ৩৯ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরীহ নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ সব হামলা সাগর ও বিমান থেকে চালানো হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর ইসরাইল কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
রোববার ইসরাইলি বিমানগুলো গাজা উপত্যকায় ১৩০ দফার বেশি হামলা করে। এ ছাড়া, ইসরাইলি গান বোট ও নৌ বাহিনীর জাহাজগুলো গাজায় রকেট হামলা ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে।
গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, গাজা শহরে ইসরাইলি জঙ্গীবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ওই বাড়ির নীচে চাপা পড়ে মারা গেছেন একই পরিবারের কমপক্ষে নয় সদস্যসহ ১০ জন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।
এ নিয়ে গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭৯ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং সাত শতাধিক আহত হয়েছেন। হতাহতের এ সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে।
এদিকে, লোহিত সাগরের প্রান্তে অবস্থিত ইসরাইলি পর্যটন শহরে ইয়ালাতে রোববার প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি পুলিশ সূত্র থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে কায়রো থেকে যুদ্ধ বিরতির যে ততপরতা চালানো হয়েছে তা ভেস্তে গেছে। গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে ইসরাইল রাজী না হওয়ায় এ ততপরতা বানচাল হয়ে যায়।
আরব দেশগুলো এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড- গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মিশরে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইখওয়ানুল মুসলিমিন সরকার তাদের হাতে গড়ে ওঠা হামাসকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসবে বলে মনে করেছিলেন মিশরের জনগণসহ আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষ। কিন্তু আরব ও মুসলিম বিশ্বকে এক্ষেত্রে চরমভাবে হতাশ করেছে কায়রো।
মিশর যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়ে মূলত এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল দু'পক্ষই 'সমান তালে' যুদ্ধ করছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, সর্বাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া ইহুদিবাদী নরপশুদের মোকাবিলায় হাতে তৈরি কিছু রকেট দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা।#রেডিও তেহরান