২০ নভেম্বর ২০১২ - ১৭:৫৯

অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের নির্মম হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

বার্তা সংস্থা আবনা : অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের নির্মম হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। আজ (বুধবার) দখলদারদের হামলায় আরো অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি শাহাদাতবরণ করেছেন। এ নিয়ে গত আট দিনে ১৫১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হলেন।  আহতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। এ পর্যন্ত অন্তত বারো'শ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের কারো কারো অবস্থা আশংকাজনক।

গাজার সর্বত্রই বোমা ফেলা হচ্ছে। এ কারণে যারা হতাহত হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই বেসামরিক মানুষ। শহীদদের মধ্যে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছে বলে ফিলিস্তিনের হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। শহীদের মধ্যে অনেক শিশু ও নারী রয়েছেন। কোনো কোনো পরিবারের সবাই মারা গেছেন। গত আট দিনে ইসরাইলি বাহিনী গাজার প্রায় দেড় হাজার স্থানে হামলা চালিয়েছে। অবরোধ বহাল থাকার কারণে ওষুধসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে গাজার চিত্র এখন ভয়াবহ। তবু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো প্রতিবাদ নেই। গতরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরাইল হামলা থামায়নি। গাজায় ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রতিরোধ সংগঠন হামাস বলেছে, ইসরাইলের কারণে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে না। শান্তিকামী বলে দাবিদার আমেরিকা গাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যায় সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে।

ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যরা রকেট ছুড়ে জবাব দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দখলদারদের হামলার জবাবে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলে রকেট ছুড়েছে প্রায় সাড়ে ছয়শ'টি। রকেট হামলায় আট দিনে অন্তত ৫ ইহুদিবাদী নিহত হয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসলামের জিহাদ সংক্রান্ত বিধিমালা মেনে প্রতিরোধ করছেন। কিন্তু ইহুদিবাদীরা কোনো নীতি-নৈতিকতা ও মানবতার তোয়াক্কা না করে নিরীহ জনতার ওপর অগণিত বোমা ফেলে চলেছে।

তবে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধা তথা গাজাবাসীদের সাহসিকতার প্রশংসা চলছে সর্বত্র। কারণ তারা অন্যায় ও দখলদারি মেনে নেয়ার চেয়ে প্রতিবাদের মাধ্যমে শাহাদাতবরণকে শ্রেয় বলে মনে করছে। বিশ্বনবীর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (আ.)-র শাহাদাতের মাস 'মহরমে' গাজা যেন পরিণত হয়েছে আরেক কারবালায়। চলছে ন্যায়-অন্যায়ের লড়াই। তাই এ মুহূর্তে কোনো ঈমানদার মুসলমানের নীরব থাকা উচিত নয় বলে ইসলামি চিন্তাবিদেরা মত প্রকাশ করেছেন।#তেহরান রেডিও