বার্তা সংস্থা আবনা : মিশরের সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি'র রাজনৈতিক দলের তিনটি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুরসি বৃহস্পতিবার রাতে যে সাংবিধানিক ডিক্রি জারি করেছেন তার বিরুদ্ধে সারাদেশে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মিশরের তিনটি শহরে ইখওয়ানুল মুসলেমিনের তিনটি দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মিশরের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন জানিয়েছে, সুয়েজ, ইসমাইলিয়া ও পোর্ট সাঈদ শহরে ইখওয়ানুল মুসলেমিনের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টি বা এফজেপি'র দপ্তরগুলোতে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া, ভূমধ্যসাগরীয় শহর আলেক্সান্দ্রিয়ায় এফজেপি'র দপ্তরে হামলা হয়েছে বলে দলের একজন নেতা জানিয়েছেন।
মিশরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদলগুলোর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসি নিজ ক্ষমতা সংহত করতে বৃহস্পতিবার নতুন সাংবিধানিক ডিক্রি জারি করেন। ডিক্রি অনুযায়ী কোনো বিচারিক প্রতিষ্ঠান দেশটির সংসদ বিলুপ্ত করতে পারবে না। এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়াসের আলি বলেছেন, "বিপ্লব রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট যে কোনো ঘোষণা দিতে কিংবা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।"
কিন্তু মিশরের বিরোধীদলগুলো ওই ডিক্রি জারির পরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আজ দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দেয় তারা। প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকরাও জারি করা ডিক্রির সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন।
রাজধানী কায়রোয় দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট মুরসির মুখপাত্র টেলিভিশনে নতুন ডিক্রি পড়ে শোনান। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট যে সাংবিধানিক ডিক্রি, আইন কিংবা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন তা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে এবং তার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
ইয়াসের আলি আরো জানান, প্রসিকিউটর জেনারেল আবদেল মেগুইদ মাহমুদকে প্রেসিডেন্ট মুরিস বরখাস্ত করেছেন এবং নতুন প্রসিকিউটর জেনারেল হিসেবে তালাত ইব্রাহিম আব্দুল্লাহকে নিয়োগ দিয়েছেন।#রেডিও তেহরান