বার্তা সংস্থা আবনা : ব্রিটিশ গোপন দলিল থেকে সৌদি আরবের রাজাদের রাজ্য শাসন নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়েছে। ওই তথ্যে দেখা যায়- বছরের পর বছর সৌদি শাসকরা পবিত্র হজ থেকে পাওয়া রাজস্ব ব্রিটিশ সরকারকে দিয়ে এসেছেন।
ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি যে 'অতি গোপনীয়' দলিল দস্তাবেজ প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে- ঔপনিবেশিক আমলে সৌদি হজের রাজস্বের ওপর ব্রিটিশ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। মাশরেক নিউজ এ খবর দিয়েছে।
গোপন তথ্য থেকে এও স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ আল-সৌদও হজ থেকে আয় করা রাজস্বের একটা অংশ নিতেন যদিও তখন হিজাজ অঞ্চলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ১৯২৪ সালে তিনি এ অঞ্চল বিজয় করেন এবং সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্রিটিশ এ গোপন দলিলের নম্বর হচ্ছে এনএ-সিএবি ২৪৪/১১০/৪০। এ দলিল অনুযায়ী, তখন এক লাখের বেশি মানুষ হজ পালনের জন্য হিজাজ যেতেন যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ভারতীয় মুসলমান।
গোপন এ তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিস থেকে সৌদি রাজাকে মাসে ৭৫ হাজার ভারতীয় রুপি পরিশোধ করতে হতো। তবে, একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা একবার সৌদি শাসককে এ অর্থ দিতে অস্বীকার করেছিলেন।
অন্য একটি গোপন দলিল থেকে জানা যায়, যখন ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনসহ কয়েকটি আরব জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল তখন ব্রিটেন সৌদি শাসকদেরকে উগ্র ও চরমপন্থী আরব কৃষকদের ঠেকানোর জন্য বার্ষিক বেতন দিতো। এসব কৃষক ব্রিটিশ সেনাদের ওপর প্রায়ই হামলা চালাতো। তাদের হাত থেকে সেনাদের বাঁচাতে এ ব্যবস্থা নিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।
এ ধরনের অর্থ দেয়া নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ছিল। একবার ইবনে সৌদকে স্যার পারসি কক্স বার্ষিক এক লাখ বিশ হাজার পাউন্ড বেতন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চার্চিল এক লাখ পাউন্ড দেয়ার প্রস্তাব দেন মাসিক ভিত্তিতে। কিন্তু লর্ড কার্জন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন- কেন একজন আরব মরুচারিকে আফগান যুবরাজের সমান বেতন দিতে হবে?#রেডিও তেহরান