৩০ ডিসেম্বর ২০১২ - ০৮:২২

ইরাকের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দেশটিকে ঘিরে নয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : ইরাকের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দেশটিকে ঘিরে নয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইরাকের আল-আনবার, সালাহউদ্দিন ও মোসুল শহরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাবেক বাথ সরকারের অনুগতদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তারা সাবেক বাথ শাসনামলের ইরাকি পতাকার পাশাপাশি সিরিয়ার সরকার বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এসএনসি'র পতাকা বহন করছিল। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

এদিকে কাতারের অর্থায়নে ইরাকের পরাজিত বাথ সরকারের অনুচররা 'ফালুজা' নামে একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করেছে। পাশাপাশি সাবেক শাসক সাদ্দামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ্জত ইব্রাহিম আদ-দুরি বাথ পার্টির লোকদেরকে আবার সংগঠিত করে 'ইরাকি লিবারেশন আর্মি' নামের একটি বিদ্রোহী  গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা শুরু করেছেন।

ইরাকের এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এসব ঘটনা দেশটিকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে কুর্দিদের সম্পর্কের জটিলতা বাগদাদ সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির অসুস্থতা ষড়যন্ত্রকারীদের সামনে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ইরাকের প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলের কাছে তালাবানি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং তিনি এ পর্যন্ত বহুবার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এ অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা জোরদার করেছে। এসব দেশ ইরাককে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের কারণে লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকে যে সহিংসতা চলছে তা আরো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। এসব দেশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে তুরস্কও।

লেবাননের উত্তরাঞ্চলে জাতিগত সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দেয়ার পর গোটা সিরিয়াকে রণক্ষেত্র করে ফেলেছে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো। এসব দেশের নতুন টার্গেট এখন ইরাক। বাগদাদ সরকারের সঙ্গেউত্তরইরাক নিয়ন্ত্রণকারী কুর্দি কর্মকর্তাদের মতবিরোধের জের ধরে সম্প্রতি দু'পক্ষ বিতর্কিত এলাকায় সেনাও মোতায়েন করেছিল।

এবার বাগদাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হওয়ায় বোঝা যায়, ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় শিয়া-সুন্নি মতবিরোধ উস্কে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে- যা ইরাকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হবে।  এ ষড়যন্ত্রের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা ও  রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি তার দেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে ইরাকে বেশিদূর এগুনো যাবে না। তিনি আরো বলেন, স্বৈরতন্ত্র উতখাত করে ইরাকে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এক সময় অলীক কল্পনা মনে হলেও তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি নতুন করে সংঘাত উস্কে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ইরাকের সব দল ও গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই মুহূর্তে ইরাকের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় সংহতি। ইরাকের বেশিরভাগ দল চায়, সহিংসতা পরিহার ও পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে।#রেডিও তেহরান